শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
লেবানন ও ইসরাইলের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু; লঙ্ঘনের অভিযোগ সেনাবাহিনীর বাণিজ্য সচিবের মৃত্যুতে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের শোক আলোকিত লালমনিরহাটে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি ইরান: ট্রাম্প মুন্সীগঞ্জে বিনামূল্যে আউশ ধান বীজ ও সার বিতরণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব নিঝুম দ্বীপে সাবেক বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রাজধানীতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আটক ২: র‌্যাব নকল বন্ধে এসএসসি পরীক্ষার রুটিন না দেওয়ার খবর গুজব: শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ জুন, ২০২০
  • ২৪৫ বার পঠিত

নিউজ ডেস্ক: চলমান করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৫টায় অধিবেশন বসবে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় আগামী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

করোনার এই মহামারী এবং প্রতিকূলতার মধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে আগামী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। এবারের বাজেটে মোট ব্যয়ের আকার হচ্ছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। আর মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬ কোটি টাকা। ঘাটতি ধরা হচ্ছে জিডিপি’র ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। যা আগের যে কোনো বছরের তুলনায় সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট।

পাশাপাশি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে মন্দা অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও নিু আয়ের মানুষের পুনর্বাসন। এদিকে বাজেট অধিবেশন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়।

করোনাভাইরাসের কারণে নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। একের পর এক সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী আক্রান্ত হওয়ায় করোনার ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্যেই অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশনকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। প্রবীণ ও অসুস্থ এমপিদের অধিবেশনে না আসার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, করোনা সতর্কতার অংশ হিসেবে সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করার কথা জানানো হয়েছে। রেওয়াজ অনুযায়ী চলতি সংসদের সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে অধিবেশন মুলতবি করা হবে।

পরদিন ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর মাত্র ৫ দিন আলোচনা হবে। আর পুরো বাজেট পাসের প্রক্রিয়া ব্যয় হবে ১০ দিন। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা বাজেট আলোচনা হতে পারে। গত বছর প্রায় ৬০ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছিল। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এই আলোচনা চলবে। আগামী ২৯ জুন অর্থবিল ও ৩০ জুন মূল বাজেট পাস হবে। মাত্র ১২ কার্যদিবসে আগামী ৯ জুলাই শেষ হতে পারে দেশের ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন।

বৃহস্পতিবার বাজেট পেশের পর ১২ ও ১৩ জুন সংসদের বৈঠক মুলতবি রাখা হবে। ১৪ জুন রোববার সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা। এদিন থেকে প্রতিটি কার্যদিবস সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলবে। ১৫ জুন সোমবার সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা, নির্দিষ্টকরণ সম্পূরক বিল পাস। ১৬ জুন মঙ্গলবার ও ১৭ জুন বুধবার মূল বাজেটের ওপর আলোচনা। ১৮ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি। ২২, ২৩ ও ২৪ জুন বাজেটের ওপর আলোচনা। ২৫ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি। ২৯ জুন বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা এবং অর্থবিল পাস। ৩০ জুন মূল বাজেট ও নির্দিষ্টকরণ বিল পাস। ৮ অথবা ৯ জুলাই অধিবেশন সমাপ্তি।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারও অধিবেশনের আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হচ্ছে না। এর আগে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ১৮ এপ্রিল একদিনের জন্য বসা সংসদের সপ্তম অধিবেশনের আগেও কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হয়নি। আর সংসদ অধিবেশনে উপস্থিতি ৯০ জনের মধ্যে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অধিবেশনকে সামনে রেখে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রতি বছরই বাজেট উত্থাপনের দিন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকলেও এবার কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার স্থগিত করা হয়েছে।

তাছাড়া অধিবেশন পরিচালনার জন্য সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসাও সীমিত করা হয়েছে। শুধু যাদের প্রয়োজন হবে তারাই আসবেন। আর তাদের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা নেগেটিভ নিশ্চিত হয়ে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে সংসদে আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হবে। তারই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ঠিক পেছনের আসনে বসা সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীকে এক সারি পেছনে বসতে হবে। অন্যদের আসনও ফাঁকা রেখে বিন্যাস করা হয়েছে। সংসদে যোগদানকারী সংসদ সদস্যদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে। প্রত্যেকের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া টানেলের ভেতরে স্থাপন করা জীবাণুমুক্তকরণ চেম্বারের ভেতর দিয়ে সবাইকে প্রবেশ করতে হবে।

প্রতি বছর বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সংসদে উৎসবের আমেজ থাকলেও এবার তেমনটি নেই। উল্টো সংসদ এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা গেছে। কারণ ইতোমধ্যে ৮ জন সংসদ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বশেষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়। নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসায় সোমবার রাতে তাকে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে করোনা পজিটিভ আসায় হেলিকপ্টারে বান্দরবান থেকে ঢাকায় এনে সিএমএইচে ভর্তি করা হয় পার্বত্য বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংকে।

করোনা আক্রান্তদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। তিনি পহেলা জুন নিউমোনিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে প্রথম করোনা আক্রান্ত সংসদ সদস্য নওগাঁ-২ আসনের মো. শহীদুজ্জামান সরকার ইতোমধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। এছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের এবাদুল করিম বুলবুল, চট্টগ্রাম-৬ আসনের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, জামালপুর-২ আসনের ফরিদুল হক খান দুলাল ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, সংসদ সদস্য ছাড়াও সংসদের ৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন যুগান্তরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ঝুঁকি ও আতঙ্ক থাকলেও তা মোকাবেলার জন্য কঠোর সতর্কতাও অবলম্বন করা হচ্ছে। বাজেট অধিবেশন থেকে যাতে নতুন কেউ সংক্রমিত না হন, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রবীণ ও অসুস্থ এমপিদের অধিবেশনে না আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আনতে বয়স যাচাইয়ের একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি শেষ করেছে সংস্থাটি। শিগগিরই এটি ব্যবহারযোগ্য করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে নতুন নিয়ম আসতে যাচ্ছে। এই অ্যাপ মূলত একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মতো কাজ করবে। ব্যবহারকারীরা এতে পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র আপলোড করে নিজেদের বয়স যাচাই করতে পারবেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহারকারীর জন্মতারিখ বা ব্যক্তিগত তথ্য সরাসরি দেখতে পারবে না। শুধু নির্দিষ্ট বয়সসীমার ওপরে বা নিচে আছেন কি না এই তথ্যই জানানো হবে। ইউরোপীয় কমিশন বলছে, এই ব্যবস্থা চালু হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আর বয়স যাচাই নিয়ে অজুহাত দেখাতে পারবে না। কারণ একটি কেন্দ্রীয় সমাধানই তাদের সামনে থাকবে। এতে প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর আলাদা করে তথ্য সংগ্রহের চাপও কমবে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, যাতে তারা কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য আরও কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে। এরই মধ্যে কিছু দেশ কড়া পদক্ষেপও নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও বয়স যাচাই ও অভিভাবকের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার আইন পাস হয়েছে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বয়স যাচাই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের মতে, ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করলে গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে অ্যাপ স্টোর বা প্ল্যাটফর্মগুলোকে কেন্দ্রীয়ভাবে এই তথ্য সংরক্ষণ করতে হলে তা আরও জটিল হয়ে উঠবে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নতুন অ্যাপটি একটি বিকল্প সমাধান হিসেবে সামনে আসছে। এতে ব্যবহারকারীর তথ্য সরাসরি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়বে না। বরং একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই সম্পন্ন হবে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, অ্যাপটি প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত এবং খুব শিগগিরই ইউরোপীয় নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সদস্য দেশগুলো নিজেদের আইন অনুযায়ী অ্যাপটি কাস্টমাইজ করতে পারবে। ইউরোপের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী, বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন অ্যাপটি ব্যবহার বাধ্যতামূলক না হলেও বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করলে সেটি সমান কার্যকর প্রমাণ করতে হবে। তা না হলে শাস্তির মুখে পড়তে পারে প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে অনলাইন নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে গোপনীয়তা রক্ষা করে বয়স যাচাইয়ের একটি নতুন মানদণ্ডও তৈরি হতে পারে।

© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com