ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় কুড়িগ্রামের বিজিবি সদস্য নিহত উলিপুরে কছিম উদ্দিনের ৩৪তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে ভাওয়াইয়া ও সংগীতানুষ্ঠান সুনামগঞ্জের লাউড়েরগর গ্রামে আসাদ মিয়ার ঘর থেকে ৩০০ বোতল ফেনসিডিল,ফোসকাসহ ভারতীয় পণ্য জব্দ কলকাতার আগুনে নিভে গেল ৭ বাংলাদেশির প্রাণ, বেনাপোলে ফিরল ৫ মরদেহ—স্বজনদের আহাজারিতে ভারী সীমান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া কামনা বরিশালে বিমানবন্দরে এলাকায় ১০ কেজি গাঁজাসহ বাসযাত্রী গ্রে/প্তার ‎ ‎আইনে নিষেধ, বাস্তবে জমজমাট: পিরোজপুরে সরকারি শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্যের অভিযোগ, ওয়াকফ জমি রক্ষায় দুয়ারীপাড়ায় মানববন্ধন তালায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষ/ণচেষ্টা, যুবক আ/টক মক্কায় ডায়মন্ড প্রবাসী গ্রুপের সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

দুবাই থেকে নিঃস্ব হয়ে ফিরলেন বাবা-ছেলে

প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়ে বিদেশে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফিরেছেন শাহিন আলম ও তার ছেলে নাইম হোসেন। দুবাই হোটেলে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরিবারের মাধ্যমে মুক্তিপণ হিসাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র।

ভুক্তভোগী শাহিন আলম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

শাহিন আলম উল্লাপাড়া মডেল থানায় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তার অভিযোগে জানান, চলতি বছরের প্রথম দিকে উপজেলার দাদপুর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে মো. মুস্তাকিন ও মোকসেদ ফকিরের ছেলে আরফান হোসেনের সঙ্গে পূর্ব পরিচয়ের সূত্রধরে চাকরির ব্যাপারে তার কথা হয়। মুস্তাকিন ও আরফান দুইজনই দুবাইয়ে চাকরি করেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে (২০২২) তারা দুইজন তাদের বাড়িতে আসেন। ওই সময় শাহিন আলমকে দুবাই এবং তার ছেলে নাইমকে পোল্যান্ডে চাকরি দেবেন বলে উভয়পক্ষের মধ্যে মোট ১১ লাখ টাকার চুক্তি হয়।

চুক্তি অনুযায়ী এই দুই ব্যক্তির পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে প্রথম দফায় শাহিন আলম তাদের ৬ লাখ টাকা দাদপুরের গ্রামের বাড়িতে প্রদান করেন। কথা হয় দুইজনের চাকরি হলে অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে। এই চুক্তির প্রেক্ষিতে গত ৩০-০৬-২০২২ তারিখে শাহিন আলম এবং তার ছেলে নাইম দুবাইয়ে যান। সেখানে প্রতারক চক্রের ঠিক করা একটি হোটেলে উঠেন। ওই হোটেলে শাহিন ও নাইমকে চাকরি না দিয়ে জোর করে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন চালায় মুস্তাকিন বাহিনী। নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে পূর্ব প্রতিশ্রুতির অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা মুস্তাকিনের বাবা ও তার পরিবারের লোকজনকে মুক্তিপণ হিসেবে শাহিন আলমের সলপ গ্রামের বাড়ি থেকে প্রদান করা হয়।

শাহিন আলম জানান, টাকা পাওয়ার পর মুস্তাকিন ও তার লোকজন তাদেরকে (শাহিন) ছেড়ে দেন। এ অবস্থায় শাহিন ও তার ছেলে দুবাইতে কর্মরত বাংলাদেশের কয়েকজন লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মানবিক কারণে ওই লোকজন গত আগস্ট মাসের ১৯ তারিখে শাহিন আলম ও নাইমকে টিকিট কেটে বাংলাদেশে পাঠান। দেশে ফিরে শাহিন মুস্তাকিনের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা, ভাই ও পরিবারের লোকজনের কাছে মুস্তাকিনের কর্মকাণ্ড জানিয়ে টাকা ফেরত চান।

কয়েক দফায় দাদপুরের বাড়িতে যান শাহিন আলম। কিন্তু মুস্তাকিনের বাবা নুর ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন এবং তাদের বাড়িতে টাকা চাইতে গেলে মারধরের হুমকি দেন। এ অবস্থায় প্রতারকদের গৃহীত ১১ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে শাহিন আলম উল্লাপাড়া থানায় প্রতারক মুস্তাকিন ও আরফান হোসেনসহ তাদের পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে দুইদিন আগে একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মুস্তাকিন ও আরফান হোসেনে সঙ্গে দুবাইয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলে পরিবার থেকে তাদের ফোন নম্বর নেই বলে জানানো হয়। পরে মুস্তাকিনের বাবা নুর ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি তার ছেলে শাহিন আলমের নিকট থেকে টাকা নিয়েছেন কিনা তা জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

নুর ইসলাম জানান, তার ছেলে আলাদা থাকেন। এজন্য ছেলের কোনো দায়-দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করতে পারবেন না। অনুরূপ কথা বলে আরফানের পরিবারও।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার এসআই আব্দুস সালাম জানান, অভিযোগ পেয়ে তিনি দাদপুরে মুস্তাকিন ও আরফানের বাড়ি গিয়েছিলেন। তাদের পরিবার চাকরি দেওয়ার নাম করে কারো থেকে কোনো টাকা গ্রহণ করেছেন কিনা, তা তারা জানেন না বলে উল্লেখ করেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন এসআই।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় কুড়িগ্রামের বিজিবি সদস্য নিহত

দুবাই থেকে নিঃস্ব হয়ে ফিরলেন বাবা-ছেলে

আপডেট টাইম : ০৪:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়ে বিদেশে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফিরেছেন শাহিন আলম ও তার ছেলে নাইম হোসেন। দুবাই হোটেলে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরিবারের মাধ্যমে মুক্তিপণ হিসাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র।

ভুক্তভোগী শাহিন আলম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

শাহিন আলম উল্লাপাড়া মডেল থানায় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তার অভিযোগে জানান, চলতি বছরের প্রথম দিকে উপজেলার দাদপুর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে মো. মুস্তাকিন ও মোকসেদ ফকিরের ছেলে আরফান হোসেনের সঙ্গে পূর্ব পরিচয়ের সূত্রধরে চাকরির ব্যাপারে তার কথা হয়। মুস্তাকিন ও আরফান দুইজনই দুবাইয়ে চাকরি করেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে (২০২২) তারা দুইজন তাদের বাড়িতে আসেন। ওই সময় শাহিন আলমকে দুবাই এবং তার ছেলে নাইমকে পোল্যান্ডে চাকরি দেবেন বলে উভয়পক্ষের মধ্যে মোট ১১ লাখ টাকার চুক্তি হয়।

চুক্তি অনুযায়ী এই দুই ব্যক্তির পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে প্রথম দফায় শাহিন আলম তাদের ৬ লাখ টাকা দাদপুরের গ্রামের বাড়িতে প্রদান করেন। কথা হয় দুইজনের চাকরি হলে অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে। এই চুক্তির প্রেক্ষিতে গত ৩০-০৬-২০২২ তারিখে শাহিন আলম এবং তার ছেলে নাইম দুবাইয়ে যান। সেখানে প্রতারক চক্রের ঠিক করা একটি হোটেলে উঠেন। ওই হোটেলে শাহিন ও নাইমকে চাকরি না দিয়ে জোর করে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন চালায় মুস্তাকিন বাহিনী। নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে পূর্ব প্রতিশ্রুতির অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা মুস্তাকিনের বাবা ও তার পরিবারের লোকজনকে মুক্তিপণ হিসেবে শাহিন আলমের সলপ গ্রামের বাড়ি থেকে প্রদান করা হয়।

শাহিন আলম জানান, টাকা পাওয়ার পর মুস্তাকিন ও তার লোকজন তাদেরকে (শাহিন) ছেড়ে দেন। এ অবস্থায় শাহিন ও তার ছেলে দুবাইতে কর্মরত বাংলাদেশের কয়েকজন লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মানবিক কারণে ওই লোকজন গত আগস্ট মাসের ১৯ তারিখে শাহিন আলম ও নাইমকে টিকিট কেটে বাংলাদেশে পাঠান। দেশে ফিরে শাহিন মুস্তাকিনের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা, ভাই ও পরিবারের লোকজনের কাছে মুস্তাকিনের কর্মকাণ্ড জানিয়ে টাকা ফেরত চান।

কয়েক দফায় দাদপুরের বাড়িতে যান শাহিন আলম। কিন্তু মুস্তাকিনের বাবা নুর ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন এবং তাদের বাড়িতে টাকা চাইতে গেলে মারধরের হুমকি দেন। এ অবস্থায় প্রতারকদের গৃহীত ১১ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে শাহিন আলম উল্লাপাড়া থানায় প্রতারক মুস্তাকিন ও আরফান হোসেনসহ তাদের পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে দুইদিন আগে একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মুস্তাকিন ও আরফান হোসেনে সঙ্গে দুবাইয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলে পরিবার থেকে তাদের ফোন নম্বর নেই বলে জানানো হয়। পরে মুস্তাকিনের বাবা নুর ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি তার ছেলে শাহিন আলমের নিকট থেকে টাকা নিয়েছেন কিনা তা জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

নুর ইসলাম জানান, তার ছেলে আলাদা থাকেন। এজন্য ছেলের কোনো দায়-দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করতে পারবেন না। অনুরূপ কথা বলে আরফানের পরিবারও।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার এসআই আব্দুস সালাম জানান, অভিযোগ পেয়ে তিনি দাদপুরে মুস্তাকিন ও আরফানের বাড়ি গিয়েছিলেন। তাদের পরিবার চাকরি দেওয়ার নাম করে কারো থেকে কোনো টাকা গ্রহণ করেছেন কিনা, তা তারা জানেন না বলে উল্লেখ করেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন এসআই।


প্রিন্ট