ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রের কল্যাণে দলনিরপেক্ষভাবেই কাজ করব: রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের বৈঠক অবকাঠামো-নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই: এলজিআরডি মন্ত্রী অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তির উৎস নজরুল: রিজভী প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আমরা দেশ ও জনগণের জন্য এনসিপিসহ একসঙ্গে কাজ করছি: জামায়াত আমির ঢাকায় যাত্রাবিরতি ভুটানের রাজার, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিত

পদ্মা সেতুর দুই হাজার ১০০ মিটার (দুই কিলোমিটারের বেশি) দৃশ্যমান হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,সিটিজেন নিউজ: পদ্মা সেতুর ১৪তম স্প্যান বসছে আজ শনিবার। এর মধ্য দেশে বহুল কাক্সিক্ষত এই সেতুর দুই হাজার ১০০ মিটার (দুই কিলোমিটারের বেশি) দৃশ্যমান হচ্ছে। ‘৩-সি’ নম্বর এই স্প্যানটি মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১৫-১৬ পিলারে স্থাপন করা হবে।

এর আগে প্রথমে বৃহস্পতিবার এবং পরে শুক্রবার স্প্যানটি বসানোর কথা ছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া ও পিলারের কাছে পলি জমার কারণে ১৪তম স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়নি।

পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলী জানান, ইতিমধ্যে পলির স্থান চিহ্নিত করতে সার্ভে শেষে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত এই ড্রেজিং চলবে। পরে সকাল ১০টার পর স্প্যান ওঠানোর কাজ শুরু হবে। আশা করা যাচ্ছে, শনিবারই স্প্যানটি ওঠানো সম্ভব হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার স্প্যান বহনকারী ক্রেনটি কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইর্য়াড থেকে রওয়ানা দিয়ে ১৫ নম্বর খুঁটির কাছে নোঙ্গর করে রাখা হয়। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে স্প্যানটি রওনা দিতে বিলম্ব হয়। এছাড়া ১৫-১৬ নম্বর পিলারের কাছে পলি জমে থাকার কারণে ড্রেজিং করে পলি অপসারণের কাজও চলছে। ভাসমান ক্রেনটি পলি থাকার কারণে নোঙর করতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই পলি অপসারণ করার পর এটি বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। স্প্যানটি পিলারের উপর বসানো হলে সেতুর ২১০০ মিটার দৃশ্যমান হবে।

ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের আর তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের প্যানটিকে মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে বহন করে নিয়ে যায় তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেন।

পুরো সেতুতে দুই হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। আর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে দুই হাজার ৯৫৯টি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৪২টি খুঁটির মধ্যে এ পর্যন্ত ২৯টি খুঁটি সম্পন্ন হয়েছে। ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৯০টি পাইল স্থাপন হয়ে গেছে। ৪১টি স্প্যানের এ পর্যন্ত ১৩টি স্প্যান বসেছে।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই বছরের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। বর্তমান ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। মূল সেতু নির্মাণে কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। আর নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রের কল্যাণে দলনিরপেক্ষভাবেই কাজ করব: রাষ্ট্রপতি

পদ্মা সেতুর দুই হাজার ১০০ মিটার (দুই কিলোমিটারের বেশি) দৃশ্যমান হচ্ছে

আপডেট টাইম : ১১:৩৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক,সিটিজেন নিউজ: পদ্মা সেতুর ১৪তম স্প্যান বসছে আজ শনিবার। এর মধ্য দেশে বহুল কাক্সিক্ষত এই সেতুর দুই হাজার ১০০ মিটার (দুই কিলোমিটারের বেশি) দৃশ্যমান হচ্ছে। ‘৩-সি’ নম্বর এই স্প্যানটি মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১৫-১৬ পিলারে স্থাপন করা হবে।

এর আগে প্রথমে বৃহস্পতিবার এবং পরে শুক্রবার স্প্যানটি বসানোর কথা ছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া ও পিলারের কাছে পলি জমার কারণে ১৪তম স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়নি।

পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলী জানান, ইতিমধ্যে পলির স্থান চিহ্নিত করতে সার্ভে শেষে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত এই ড্রেজিং চলবে। পরে সকাল ১০টার পর স্প্যান ওঠানোর কাজ শুরু হবে। আশা করা যাচ্ছে, শনিবারই স্প্যানটি ওঠানো সম্ভব হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার স্প্যান বহনকারী ক্রেনটি কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইর্য়াড থেকে রওয়ানা দিয়ে ১৫ নম্বর খুঁটির কাছে নোঙ্গর করে রাখা হয়। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে স্প্যানটি রওনা দিতে বিলম্ব হয়। এছাড়া ১৫-১৬ নম্বর পিলারের কাছে পলি জমে থাকার কারণে ড্রেজিং করে পলি অপসারণের কাজও চলছে। ভাসমান ক্রেনটি পলি থাকার কারণে নোঙর করতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই পলি অপসারণ করার পর এটি বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। স্প্যানটি পিলারের উপর বসানো হলে সেতুর ২১০০ মিটার দৃশ্যমান হবে।

ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের আর তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের প্যানটিকে মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে বহন করে নিয়ে যায় তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেন।

পুরো সেতুতে দুই হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। আর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে দুই হাজার ৯৫৯টি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৪২টি খুঁটির মধ্যে এ পর্যন্ত ২৯টি খুঁটি সম্পন্ন হয়েছে। ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৯০টি পাইল স্থাপন হয়ে গেছে। ৪১টি স্প্যানের এ পর্যন্ত ১৩টি স্প্যান বসেছে।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই বছরের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। বর্তমান ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। মূল সেতু নির্মাণে কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। আর নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।


প্রিন্ট