রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ২০০জন হাফেজকে সংবর্ধনা দেন ইসলামী ছাত্রশিবির গোদাগাড়ীতে পরকীয়া প্রেমের টানে চুরি সোনা ও নগদ টাকাসহ পুত্রবধূ ও তার প্রেমিক গ্রেফতার রাজশাহীতে ঈদের কেনাকাটায় ব্র্যান্ডের শোরুমে ছুটছেন বিত্তবানরা যশোরের একটি মসজিদে ইতিকাফে বোসেছে দেশি-বিদেশি মোট ১৬০০ জন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা: সাবেক কাউন্সিলর মিন্টু দুই দিনের রিমান্ডে কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ালো এনবিআর কাউকে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না—সেলিম উদ্দিন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করার আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বরিশালে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উদযাপন

বরিশালে শেষ সময়ে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত

বরিশালে রোজার শেষের দিকে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নিত্যনতুন পোশাকের সম্ভার সাজিয়েছে বরিশালের বিপনিবিতানগুলো। আকর্ষণীয় ডিজাইনের নতুন নতুন কালেকশন এনেছে ব্যবসায়ীরা। অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেচা-কেনাও জমজমাট বলছে ব্যবসায়ীরা। তবে গত বছরের তুলনায় দাম বেশি দাবি করেছেন ক্রেতারা। আর ঈদে নির্বিঘ্নে যাতে সবাই কেনাকাটা করতে পারে তার জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।

ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। পরিবারের সকলের জন্য কেনাকাটা করতে বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল গুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। শেষ সময়ের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।

নগরীর ঐতিহ্যবাহী চকবাজার মার্কেট। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য এই মার্কেটটি খুব জনপ্রিয়। এখানে নারী ও শিশুদের শাড়ি, থ্রী পিচ, জুতা ও প্রসাধনী কসমেটিক্স সবই মেলে। তাই এখনে পা ফেলার যায়গা নেই। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততোই বরিশালের চকবাজার এলাকায় ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের পোশাকের দোকানে ভিড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এবছর দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি ফারসি ও নায়রা পোষাকের বেশ চাহিদা রয়েছে। তবে দাম বেশি বলে দাবি ক্রেতাদের।

ঈদে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে আসা আনিচুর রহমান বলেন, মার্কেটে পোশাক ভালো মানের থাকলেও দাম অনেক চড়া। আমাদের মত যারা সাধারণ ক্রেতা তাদের নাগালের বাইরে দাম। সরকার যদি বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে কাজ করত তাহলে সবার জন্য ভাল হত।

বাবার সাথে মার্কেটে আসা মুনতাহা বলেন, আমি আমার মা বাবার সঙ্গে এসেছি। নিজের পছন্দমত সারারা জামা কিনেছি। আমার ছোট বোনের জন্যও একটি পাকবস্তানি জামা কিনেছি।

আরেক ক্রেতা সোনিয়া বেগম বলেন, মার্কেটে বিভিন্ন নামের জামা পাওয়া যাচ্ছে, তবে দাম অনেক বেশি মনে হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবছর দাম অনেক বেশি। ছেলে মেয়ে পরিবারসহ সবার জন্যই কিনতে হবে। কিস্তু মার্কেটে জামা কাপড়ের দাম অনেক বেশি হওয়ায় কেনাকাটায় হিমসিম খেতে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা লাভলি আক্তার বলেন, আমরা যারা মধ্যবিত্ত তাদের সাধ্যের বাইরে সব কিছু। তারপরও সবার জন্য কেনার চেষ্টা করছি। কিন্তু সরকার দাম নিয়ন্ত্রণ করলে আমাদের উপকার হত।

এবছর ঈদ মার্কেটে নতুন করে পোশাকের তেমন কোন নাম না থাকলেও বিভিন্ন পোশাকের নাম দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে মেয়েদের নায়রা, সারারা, গারারা, পাকিস্তানি, ইন্ডিয়ান, ফারসি বিভিন্ন নামে বেনামে পোশাক বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সারারা, গারারা, ফারসি পোশাকে নজর বেশি ক্রেতাদের। যা ৩০০০ থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জামদানি, সিল্ক জামদানি, বি প্লাস শাড়িতে বেশ আগ্রহ ক্রেতাদের। দাম ২০০০-৫০০০ টাকার মধ্যে থাকায় বিক্রিও বেশি। এছাড়া সুতির হাতে কাজ করা থ্রী পিচ, এ্যামব্রডারি থ্রি পিচও চলছে। বাজারে সাদা বাহার, অরগানজার, হেনা, ফারসি কামিজ ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবছর ক্রেতাদের ভিড় ও মার্কেটে বেচা বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি বিক্রেতারাও।

বিক্রেতা শিবলু দাস বলেন, মার্কেটে বেচা বিক্রি জমে উঠেছে। সবাই ভালো বেচা কেনা করছে। রোজা আরো বেশ কয়েকটি বাকি আছে। আসা করছি আমাদের বেচা বিক্রি সামনে আরো বাড়বে।

ব্যবসায়ী সরোয়ার আলম বলেন, এবছর বেচা-কেনা ভালো। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই বিভিন্ন শাড়ি থ্রী পিচ বিক্রি করা হচ্ছে। সবার যাতে সাধ্যের মধ্যে সব ধরনের পোশাক পাওয়া যায় সে ব্যবস্থাই করা হয়েছে। আমাদের এখানে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত থ্রী পিচ পাওয়া যাচ্ছে। সুরুজ নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, আমাদের এখানে সব ধরনের কালেকশন রাখা হয়েছে। ছেলে, মেয়ে ও শিশুদের নানা আইটেম রয়েছে। আর দাম নাগালের মধ্যেই রাখা হয়েছে।

এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে বরিশালে নামি দামি সব শো-রুম গুলোতে ভিড় বেড়েছে ক্রেতাদের। এবছর রোজার শুরু থেকেই বরিশাল নগরীর সদর রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন শো-রুম খোলা হয়েছে। অনেকেই দিচ্ছেন বিশেষ ছাড়।

পোশাকের শোরুমে পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট ও শিশুদের পোষাক কিনতে ভিড় করছেন অনেকে। ক্রেতাদের চাহিদা ও রুচির বিষয়টি মাথায় রেখে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ সব বয়সী মানুষের জন্য নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক আনা হয়েছে শো রুমগুলোতে। এসব শোরুমে বিভিন্ন রং বেরং এর পাঞ্জাবি ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ঈদকে ঘিরে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলগুতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। সকলে যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারে সেলক্ষ্যে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, মার্কেটে পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সিটিএসবি টিম কাজ করছে। মার্কেটে যাতে ছিনতাই না হয়, সে জন্য পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাড়তি ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে সবাই সুন্দর মত কেনাকাটা করতে পারে।
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে মার্কেটগুলোতে ততই ভিড় বাড়ছে। এতে বেচা বিক্রি গত বারের চেয়েও সন্তোষজনক হবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com