তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক: প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক অভাবনীয় মেলবন্ধনের নজির গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোক্তা পল কানিংহাম। নিজের প্রিয় কুকুর ‘রোজি’-কে বাঁচাতে তিনি ব্যবহার করেছেন আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—আর তাতেই মিলেছে আশাব্যঞ্জক ফলাফল। প্রাণঘাতী মাস্ট সেল ক্যানসার-এ আক্রান্ত রোজির জন্য তিনি নিজেই তৈরি করেছেন একটি ব্যক্তিগতকৃত mRNA ভ্যাকসিন।
প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে পজিটিভ কোনো ফল না আসায় কানিংহাম চ্যাটজিপিটি এবং এআই প্রোগ্রাম ‘আলফাফোল্ড’ ব্যবহার করে রোজির জন্য একটি ব্যক্তিগতকৃত বা কাস্টমাইজড এমআরএনএ (mRNA) ভ্যাকসিন তৈরি করেন। বর্তমানে রোজির শরীরের টিউমারটি অর্ধেক সংকুচিত হয়ে গেছে এবং তার স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মেশিন লার্নিং এবং ডেটা অ্যানালাইসিসে ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কানিংহাম গত ডিসেম্বরে নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সহায়তায় এই বিশেষ ভ্যাকসিনটি তৈরি করেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) ‘টুডে শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তারা প্রথমে রোজির টিউমারের ডিএনএ সিকোয়েন্সিং করেন এবং সেই টিস্যুগুলোকে ডেটাতে রূপান্তর করেন। এরপর চ্যাটজিপিটির সহায়তায় ডিএনএ-র সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে একটি নিরাময় পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। কানিংহামের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে চ্যাটজিপিটি তাকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
চিকিৎসার মাত্র ছয় সপ্তাহ পর রোজির মধ্যে অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কানিংহাম জানান যে, ক্যানসারের কারণে আগে রোজির শরীরে কোনো শক্তি ছিল না, কিন্তু এখন সে অনেক বেশি প্রাণবন্ত। এমনকি তাকে পার্কে খরগোশ ধরার জন্য বেড়া টপকাতে দেখে তিনি নিজেও অবাক হয়ে গেছেন।
যদিও কানিংহাম বিশ্বাস করেন না যে এটি ক্যানসারের শতভাগ স্থায়ী নিরাময়, তবে তিনি মনে করেন এই চিকিৎসা রোজির আয়ু এবং জীবনের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। ব্যক্তিগত এই উদ্যোগটি সফল করার জন্য তাকে নীতিগত ও আইনি অনুমোদন পেতে দীর্ঘ তিন মাস সময় ব্যয় করতে হয়েছে।
এই উদ্ভাবনী উদ্যোগটি ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা এবং ক্যানসার নিরাময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপার সম্ভাবনার পথ খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পল কানিংহামের এই পদ্ধতি আগামী দিনে ক্যানসারের নতুন থেরাপি তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
চ্যাটজিপিটি এবং আলফাফোল্ডের মতো উন্নত এআই টুলগুলো কীভাবে প্রথাগত চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারে, রোজির এই সুস্থতা তারই এক বড় উদাহরণ। প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অনন্য সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও অনেক জটিল রোগের নিরাময়ে আশা জাগাচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি