অনলাইন ডেস্ক: জেলার সদর উপজেলায় ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত এসব কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সকালে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, একটি বিভাগীয় এবং অপরটি জোনাল পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিভাগীয় পর্যায়ের ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। অপরদিকে, জোনাল পর্যায়ের ৬ সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে।
বিভাগীয় তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসাইন, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী ( লোকো) মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান, বিভাগীয় মেডিক্যাল অফিসার ডা. তাহামিনা ইয়াছমিন এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কমান্ড্যান্ট মো. শহীদ উল্লাহ।
অন্যদিকে, জোনাল তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) মো. তানভিরুল ইসলাম, চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) সাদেকুর রহমান, চিফ সিগন্যাল ও টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার, চিফ মেডিক্যাল অফিসার (পূর্ব) ডা. ইবনে সফি আব্দুল আহাদ এবং চিফ কমান্ড্যান্ট, আরএনবি (পূর্ব) মো. জহিরুল ইসলাম।
বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, দুটি তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টায় কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও কয়েকজন যাত্রী। দুর্ঘটনার পরপরই ওই রুটে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। দুর্ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পরে রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।