যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের অভ্যন্তরে প্রথমবারের মতো ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক ক্রু সদস্যকে শনিবার ভোরে উদ্ধারে নেমেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
তেহরানের দাবি, তারা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানের দুই ক্রু সদস্যের মধ্যে একজনকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে, তবে অন্যজন এখনো নিখোঁজ।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা উপসাগরীয় এলাকায় একটি মার্কিন এ-১০ গ্রাউন্ড অ্যাটাক বিমানও ভূপাতিত করেছে। তবে ওই বিমানের পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে মার্কিন সূত্রে জানা গেছে।
প্রায় এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই ঘটনায় ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, ‘না, মোটেই না। না, এটা যুদ্ধ।’
ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, তাদের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের আকাশসীমায় থাকা একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক প্রতিবেদক বলেন, কেউ যদি নিখোঁজ মার্কিন ক্রু সদস্যকে জীবিত ধরে দিতে পারে, তাকে ‘মূল্যবান পুরস্কার’ দেওয়া হবে।
ইরানে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের একাধিক বিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরাকে বিধ্বস্ত একটি ট্যাঙ্কার বিমান এবং কুয়েতের নিজস্ব বাহিনীর ভুলবশত গুলিতে ভূপাতিত তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান।
মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউস্টন ক্যান্টওয়েল, যিনি প্রায় ৪০০ ঘণ্টার যুদ্ধকালীন উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, কোনো বিমান ভূপাতিত হলে পাইলটদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের অবস্থান নির্ধারণ করা এবং যোগাযোগের ওপায় খুঁজে বের করা।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘ পাইলটদের প্রথম অগ্রাধিকার হবে লুকিয়ে থাকা, বন্দি না হওয়া।’
এদিকে নতুন করে ইসরাইল, ইরান, লেবানন এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে হামলা হয়েছে। এএফপির এক সাংবাদিক জানান, তেহরানের উত্তরে বড় ধরনের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। ইসরাইল বলেছে, তারা ইরানের রাজধানীতে একাধিক দফায় হামলা চালিয়েছে, পাশাপাশি বৈরুতেও সমান্তরাল আক্রমণ হয়েছে।
সব পক্ষই এখন ক্রমশ অর্থনৈতিক ও শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়াচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি করছে।
তেহরানের পশ্চিমে একটি সেতুর আশপাশের এলাকায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছিল, সেখানে একটি ভিলা ও আবাসিক ভবনের জানালা ভাঙা অবস্থায় দেখা গেছে বলে এএফপির প্রতিবেদক জানিয়েছেন। তবে সেখানে কোনো সামরিক স্থাপনা চোখে পড়েনি।
সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা-র বরাত দিয়ে আলবোর্জ প্রদেশের শহিদ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছে।