চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা গেলে, প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ‘কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস’ মার্চ, ২০২৬ এর সমাপনী উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, বিশ্বব্যাপী মার্চ মাস ‘কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস’ হিসেবে পালিত হয়। এ প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যÑ ‘প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তকরণ জীবন বাঁচায়’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিএসসিআর হাসপাতাল ও পিজিএস একাডেমিয়ার যৌথ উদ্যোগে পুরো মার্চ মাস জুড়ে চট্টগ্রাম শহরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও স্ক্রিনিং কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে প্রতীকী ‘ব্লু মার্চ’ আলোক সজ্জার মাধ্যমে এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পাশাপাশি প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণে সচেতনতা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে বলেও জানান মেয়র।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এত বৃহৎ পরিসরে সমন্বিত কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
কর্মসূচির আওতায় কোলোনোস্কপি ও স্টুল অকাল্ট ব্লাড টেস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় সিএসসিআর হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় প্রদান করা হয়, যা সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সিএসসিআর হাসপাতালে মোট ২ হাজার ১৫৭ জন রোগী নিবন্ধিত হন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৪৯ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং ৮১৩ জন বিভিন্ন পরীক্ষায় মূল্যছাড় সুবিধা গ্রহণ করেন।
চসিক মেয়র বলেন, সচেতনতার অভাব ও ভয়ের কারণে অনেকেই দেরিতে চিকিৎসা গ্রহণ করেন, ফলে এই রোগ জটিল আকার ধারণ করে। বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।
ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।
নাগরিকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই এবং অন্যদেরকেও সচেতন করি, কারণ প্রাথমিক শনাক্তকরণই জীবন বাঁচায়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেনÑচসিক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, সিএসসিআর (প্রা.) লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোরশেদুল করিম চৌধুরী, পিজিএস একাডেমিয়া’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. খন্দকার এ.কে. আজাদ, চসিক-এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, সিএসসিআর-এর ডায়াগনিস্ট পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ কাসেম, পিজিএস একাডেমিয়ার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আহসানুল আবেদীন, পিজিএস একাডেমিয়ার কনসালটেন্ট ডা. সাইফুল ইসলাম রাজু ও সিএসসিআর-এর সিইও ডা. সালাউদ্দীন মাহমুদ।