হাফসা আক্তার , ঢাকা | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সরকারের সমালোচনা করায় এক নাগরিককে ডিবি পরিচয়ে গ্রেফতার ও তার বিরুদ্ধে ‘প্রহসনমূলক’ মামলা দায়েরের অভিযোগে রাজধানীর উত্তরায় এক মৌন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে এ এম নাছিম হাসান নামের এক ব্যক্তিকে ডিবি পরিচয়ে গ্রেফতার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ‘সরকারের বিরুদ্ধে লেখালেখি’র বিষয়টি উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে মামলার নথিতে দেখা যায়, জাতীয় সংসদের মাননীয় চিফ হুইপের একটি ‘মজার মন্তব্য’কে কেন্দ্র করে তৈরি একটি কার্টুনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বাদী নিজেকে চিফ হুইপের ‘একনিষ্ঠ কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৭ এপ্রিল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক রাফিদ ভূঁইয়া উত্তরার আজমপুরে একটি মৌন সমাবেশের ডাক দেন।
এর ধারাবাহিকতায় ১৮ এপ্রিল বিকাল ৫টায় উত্তরার আজমপুর মোড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন নাগরিক ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা মুখ বেঁধে প্রায় ৩০ মিনিট নীরবে অবস্থান করেন। আয়োজকদের ভাষ্য, এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, যার মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা হরণের আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।
সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাফিদ ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সমালোচনার ব্যাপারে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে সামান্য কোনো অভিযোগ করলেও সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রকৃত সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠানের ডেটাবেইজ ফাঁসের ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে নাগরিক তথ্য সুরক্ষায় কঠোর আইন থাকলেও বাংলাদেশে সে ধরনের উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া আরেকজন নুর মুহাম্মদ বলেন, “বাকস্বাধীনতা একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। যৌক্তিক সমালোচনার সুযোগ না থাকলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
বক্তারা অবিলম্বে গ্রেফতার হওয়া নাছিম হাসানের মুক্তি এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।