‘সোনালী আঁশ’ খ্যাত পাটের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে পাট বীজের মানোন্নয়ন ও গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানিকৃত বীজের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশীয় বীজের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বাংলাদেশ জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)-এর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত কো-অপারেটিভ জুট মিলস ও বাংলাদেশ জুটমিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে পাটের দাম মণপ্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগে ছিল মাত্র ৩ হাজার টাকা। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও সরকার নজর দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার ইজারা পদ্ধতি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। মিলগুলো চালু হলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উৎপাদন বাড়বে। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সরকার মূলত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেল অথবা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে এসব পাটকল পরিচালনায় আগ্রহী। দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে শিল্পাঞ্চলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একসময় নরসিংদীর এসব পাটকল এলাকায় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছিল। এটি স্থানীয়দের কাছে আবেগের বিষয়ও। মিলগুলো পুনরায় চালু হলে সাধারণ শ্রমিক পদে প্রায় শতভাগ স্থানীয়দের নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ পদে প্রয়োজনে বাইরের জনবল নিয়োগ করা হতে পারে।
পরিদর্শনকালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত শিকদার, যুগ্ম সচিব হাফসা বেগম, উপসচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ ও শাহাদাৎ হোসেন কবির এবং বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন শিকদার উপস্থিত ছিলেন।