মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
চিনি খাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে শরীরে যা ঘটে সংসদ সদস্য হচ্ছেন ঝালকাঠির আরও দুজন, চারজনের মধ্যে তিনজনই নারী ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে জাইকা প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ দিনাজপুরের বিরামপুরের সরকারি বিধি উপেক্ষা করে বনের গাছ কর্তন বিরামপুরে বিট অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রবীণ-নবীনের সমন্বয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: সেলিমা রহমান পিরোজপুরে হাম-রুবেলা ঠিকাদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ইন্টারনেট সেবার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : মন্ত্রী মুস্তাফিজ-এবাদতের পর রানা কালীগঞ্জ পৌরসভা থেকে ৬০ জনকে বিনামূল্যে কম্পিউটার ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন বনানীতে অবৈধ শিশা বারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান, ৪ কেজি শিশা জব্দ

চিনি খাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে শরীরে যা ঘটে

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার পঠিত

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: মিষ্টি জাতীয় খাবারকে নিরীহ মনে হতে পারে। রাতের খাবারের পর একটু ডেজার্ট, বিকেলে চিনিযুক্ত পানীয় বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটে ভরা একটি প্লেটকেও অল্প বলে মনে হতে পারে। কিন্তু শরীরের ভেতরে সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই চিনি একটি শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া শুরু করে যা শক্তি, মেজাজ এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। এই স্বল্প সময়কালটি বুঝতে পারলে খাবারকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি বদলে যেতে পারে।

প্রথম ৩০ মিনিট: হঠাৎ বাড়ে রক্তে শর্করা

চিনি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর আপনার শরীরে আসলে কী ঘটে
ইমিগ্রেশনের সময় এই ৭ কথা বললেই মহাবিপদ
চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার মুখে দেওয়ার পরই হজম প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়। অন্ত্র থেকে গ্লুকোজ শোষিত হয়ে সরাসরি রক্তে চলে যায়। ফলে খুব অল্প সময়েই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।

চিনি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর আপনার শরীরে আসলে কী ঘটে
৪ ধরনের মানুষের জন্য চিয়া সিড বিপজ্জনক
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে পরিশোধিত চিনি বা প্রসেসড খাবার খেলে এই বৃদ্ধি খুব দ্রুত ও তীব্র হয়। অর্থাৎ, শরীরের জন্য এটি এক ধরনের ‘হঠাৎ ধাক্কা’।

ইনসুলিনের কাজ: শরীরের ভারসাম্য রক্ষা

রক্তে শর্করা বেড়ে গেলে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে পৌঁছে দিয়ে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি শরীরকে ভারসাম্যে রাখে। তবে নিয়মিত বেশি চিনি খেলে শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘমেয়াদে এতে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডোপামিনের প্রভাব: কেন মিষ্টি এত ভালো লাগে

চিনি শুধু শরীরেই নয়, মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে। মিষ্টি খাবার খেলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক ‘ফিল-গুড’ হরমোন সক্রিয় হয়।

এ কারণে মিষ্টি খাওয়ার পর ভালো লাগে, মনটা হালকা হয়। কিন্তু এই অনুভূতিই বারবার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি করে, যা এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।

শক্তি হ্রাস: হঠাৎ ক্লান্তি কেন আসে

শুরুতে শক্তি বাড়লেও তা বেশিক্ষণ থাকে না। ইনসুলিন গ্লুকোজ কোষে নিয়ে যাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে।

ফলে দেখা দেয় ক্লান্তি, দুর্বলতা বা ঝিমুনি। অনেকেই এই সময় আবার চা বা মিষ্টি কিছু খেতে চান, এভাবেই শুরু হয় এক চক্র।

শুধু মিষ্টি নয়, লুকানো চিনি

আমরা অনেক সময় ভাবি শুধু মিষ্টি খেলেই সমস্যা হয়। কিন্তু সাদা ভাত, ময়দার রুটি, পাউরুটি, আলু বা বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারও শরীরে প্রায় একই প্রভাব ফেলে।

অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণও রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামা ঘটায়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

কী করবেন?

চিনি একেবারে বাদ দেওয়া নয়, বরং নিয়ন্ত্রণই মূল কথা-

১. কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি যতটা সম্ভব কমানো

২. কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার (ডাল, শাকসবজি, বাদাম) যোগ করা

৩. খাবারের পর ১০-১৫ মিনিট হাঁটা

বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাবারের পর অল্প হাঁটাহাঁটি করলে পেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ছোট সময়, বড় প্রভাব

মাত্র ৩০ মিনিট, শুনতে খুব কম সময়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই শরীরে ঘটে যায় বড় পরিবর্তন। রক্তে শর্করার ওঠানামা, শক্তির পরিবর্তন, এমনকি মুডেও প্রভাব পড়ে।

এই চক্র যদি প্রতিদিন চলতে থাকে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই চিনি নিয়ে ভয় নয়, বরং সচেতনতা জরুরি। কারণ, শরীরের ভেতরের এই পরিবর্তনগুলো বোঝা গেলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়ে যায়।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

চিনি খাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে শরীরে যা ঘটে
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক:
মিষ্টি জাতীয় খাবারকে নিরীহ মনে হতে পারে। রাতের খাবারের পর একটু ডেজার্ট, বিকেলে চিনিযুক্ত পানীয় বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটে ভরা একটি প্লেটকেও অল্প বলে মনে হতে পারে। কিন্তু শরীরের ভেতরে সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই চিনি একটি শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া শুরু করে যা শক্তি, মেজাজ এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। এই স্বল্প সময়কালটি বুঝতে পারলে খাবারকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি বদলে যেতে পারে।

প্রথম ৩০ মিনিট: হঠাৎ বাড়ে রক্তে শর্করা

চিনি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর আপনার শরীরে আসলে কী ঘটে
ইমিগ্রেশনের সময় এই ৭ কথা বললেই মহাবিপদ
চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার মুখে দেওয়ার পরই হজম প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়। অন্ত্র থেকে গ্লুকোজ শোষিত হয়ে সরাসরি রক্তে চলে যায়। ফলে খুব অল্প সময়েই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।

চিনি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর আপনার শরীরে আসলে কী ঘটে
৪ ধরনের মানুষের জন্য চিয়া সিড বিপজ্জনক
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে পরিশোধিত চিনি বা প্রসেসড খাবার খেলে এই বৃদ্ধি খুব দ্রুত ও তীব্র হয়। অর্থাৎ, শরীরের জন্য এটি এক ধরনের ‘হঠাৎ ধাক্কা’।

ইনসুলিনের কাজ: শরীরের ভারসাম্য রক্ষা

রক্তে শর্করা বেড়ে গেলে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে পৌঁছে দিয়ে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি শরীরকে ভারসাম্যে রাখে। তবে নিয়মিত বেশি চিনি খেলে শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘমেয়াদে এতে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডোপামিনের প্রভাব: কেন মিষ্টি এত ভালো লাগে

চিনি শুধু শরীরেই নয়, মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে। মিষ্টি খাবার খেলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক ‘ফিল-গুড’ হরমোন সক্রিয় হয়।

এ কারণে মিষ্টি খাওয়ার পর ভালো লাগে, মনটা হালকা হয়। কিন্তু এই অনুভূতিই বারবার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি করে, যা এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।

শক্তি হ্রাস: হঠাৎ ক্লান্তি কেন আসে

শুরুতে শক্তি বাড়লেও তা বেশিক্ষণ থাকে না। ইনসুলিন গ্লুকোজ কোষে নিয়ে যাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে।

ফলে দেখা দেয় ক্লান্তি, দুর্বলতা বা ঝিমুনি। অনেকেই এই সময় আবার চা বা মিষ্টি কিছু খেতে চান, এভাবেই শুরু হয় এক চক্র।

শুধু মিষ্টি নয়, লুকানো চিনি

আমরা অনেক সময় ভাবি শুধু মিষ্টি খেলেই সমস্যা হয়। কিন্তু সাদা ভাত, ময়দার রুটি, পাউরুটি, আলু বা বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারও শরীরে প্রায় একই প্রভাব ফেলে।

অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণও রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামা ঘটায়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

কী করবেন?

চিনি একেবারে বাদ দেওয়া নয়, বরং নিয়ন্ত্রণই মূল কথা-

১. কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি যতটা সম্ভব কমানো

২. কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার (ডাল, শাকসবজি, বাদাম) যোগ করা

৩. খাবারের পর ১০-১৫ মিনিট হাঁটা

বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাবারের পর অল্প হাঁটাহাঁটি করলে পেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ছোট সময়, বড় প্রভাব

মাত্র ৩০ মিনিট, শুনতে খুব কম সময়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই শরীরে ঘটে যায় বড় পরিবর্তন। রক্তে শর্করার ওঠানামা, শক্তির পরিবর্তন, এমনকি মুডেও প্রভাব পড়ে।

এই চক্র যদি প্রতিদিন চলতে থাকে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই চিনি নিয়ে ভয় নয়, বরং সচেতনতা জরুরি। কারণ, শরীরের ভেতরের এই পরিবর্তনগুলো বোঝা গেলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়ে যায়।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com