সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের (এনসিএম) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে হজের এক নতুন ঋতুচক্র। এর ফলে আগামী অন্তত ২৫ বছর পবিত্র হজ আর গ্রীষ্মকালে পড়বে না।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের মুখপাত্র হুসাইন আল-কাহতানি এক বিবৃতিতে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস বলছে, এ বছর হজের মৌসুমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। আগামী বছর থেকে পরবর্তী টানা আট বছর হজ হবে বসন্তকালে। এরপরের আট বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে শীতকালে। শীতকাল শেষ হওয়ার পর পরবর্তী কয়েক বছর শরতের মনোরম আবহাওয়ায় হজ পালিত হবে। এভাবে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে ২০৫০ সালের দিকে হজ আবার গ্রীষ্মকালে ফিরে যাবে।
কেন এই পরিবর্তন?
সাধারণত ইংরেজি বা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের চেয়ে হিজরি ক্যালেন্ডার প্রতি বছর প্রায় ১১ দিন এগিয়ে যায়। চাঁদের হিসাব অনুযায়ী দিন গণনার এই পার্থক্যের কারণে হজের সময়ও প্রতি বছর পেছাতে থাকে। প্রায় ৩৩ বছরের একটি চক্র পূরণ করে হজ আবার আগের ঋতুতে ফিরে আসে। এনসিএম ২০৫০ সাল পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী হজের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে আগামী আড়াই দশক হজযাত্রীদের আর তপ্ত রোদের প্রখরতার সঙ্গে লড়তে হবে না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মক্কার মসজিদুল হারাম ও আরাফার ময়দানে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে অনেক হজযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়তেন, বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য ছিল চরম শারীরিক পরীক্ষার সময়। ২৫ থেকে ৩০ মে’র মধ্যে এ বছর হজ পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মূলত বসন্তের আবহাওয়ায় পড়বে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে মক্কায় একেবারেই গরম থাকবে না। তবে মে মাসের শেষের দিকে তাপমাত্রা গ্রীষ্মের সেই চরম পর্যায়ের চেয়ে অনেক কম ও সহনশীল থাকবে। এতে করে মিনায় অবস্থান, আরাফার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া এবং মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর মতো হজের গুরুত্বপূর্ণ রোকনগুলো পালন করা অনেক সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য যেমন সহজ হবে, তেমনি হাজিরাও স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত পালন করতে পারবেন।