রিপোর্টার: শাফায়েত হোসেন
ঢাকার মিরপুরের দারুস সালাম থানাধীন লালকুঠি এলাকায় ব্যবসায়ী রনির প্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় ১ জুন ২০২৬ তারিখে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রনির অভিযোগ, তিনি দীর্ঘ ১৪ থেকে ১৫ বছর ধরে লালকুঠি এলাকায় সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই তিনি ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। তবে কিছু সন্ত্রাসী তার কাছে চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৩০ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং কর্মচারীদের মারধর করে। এ সময় কর্মচারীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ অর্থ, স্বর্ণের চেইন ও আংটি লুট করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাশে থাকা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
এ হামলায় ব্যবসায়ী রনি, কর্মচারী আতিক, সানি, ফরহাদ, অনিকসহ ৭ থেকে ৮ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ী রনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করে আসছি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আমার প্রতিষ্ঠানে এ ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের সবাইকে তিনি শনাক্ত করতে না পারলেও সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনের উপস্থিতি দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মানবাধিকার কর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় কিছু সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, চক্রের অন্যতম প্রধান হিসেবে পরিচিত সবুজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, একজন ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, ব্যবসায়ী সমাজের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।