সাধন সাহা জয়ঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় ঝড়ে উপড়ে পড়া এবং ডালপালা কেটে ফেলা একটি মৃতপ্রায় গাছ অলৌকিকভাবে পুনরায় আগের জায়গায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় তোলপাড় ও হৈচৈ পড়ে গেছে। অলৌকিক এই গাছটি একনজর দেখতে মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে শত শত উৎসুক মানুষ এসে ভিড় জমাচ্ছেন।
কেউ কেউ গাছের শিকড় ও ছাল অলৌকিক ঔষধি বা রোগমুক্তির আশায় সংগ্রহ করছেন, আবার অনেকেই সেখানে এসে মানত ও মোমবাতি-আগরবাতি জ্বালাচ্ছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন, ২০২৬) দুপুরে বচিয়ারা গ্রামের মুন্সীবাড়ির একটি পুকুরপাড়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডালপালাহীন গাছের একটি অংশ প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতা নিয়ে ঠিক আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। গাছের নিচের মাত্র কয়েক ইঞ্চি বাদে বাকিটা কাটা এবং পুরো অংশটি কিছুটা সামনের দিকে হেলে রয়েছে।
অথচ এর শিকড়সহ গোড়ার অংশটি আগের মতোই মাটির সাথে শক্তভাবে লেগে আছে এবং এর কাটা অংশগুলো সামনেই মাটিতে পড়ে আছে। বর্তমানে গাছটির নিচের অংশ লাল কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে এবং চারপাশে নিশানা টানিয়ে পবিত্র হয়ে সেখানে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।
যা ঘটেছিল সেই অলৌকিক মুহূর্তে মুন্সীবাড়ির পরিবারের সদস্য শারমীন সুলতানা দাবি করেন, তিনি গাছটি ঝড়ে পড়তেও দেখেছেন এবং আবার ওঠার অলৌকিক দৃশ্যও সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন। প্রায় মাস দেড়েক আগে প্রচণ্ড ঝড়ে গাছটি গোড়াসহ উপড়ে মাটিতে পড়ে যায়। এরপর গাছটি বিক্রি করে দেওয়ার পর কাঠুরিয়া এসে ডালপালা কেটে টুকরো টুকরো করার পর হঠাৎ করেই গাছটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।
গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী এবং পরিবারের সদস্য আবুল বাশার মুন্সী বলেন, “প্রচণ্ড ঝড়-তুফানে বড় আকারের গাছটি উপড়ে পড়ে যাওয়ার পর আমরা তা বিক্রি করে দিই। ডালপালাসহ গাছের অনেক অংশ কেটে ফেলার পর এক সপ্তাহ ধরে গাছটি কাটা অংশ নিয়ে ঠিক আগের জায়গাতেই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটা সরাসরি মহান আল্লাহর কুদরত ও ইশারা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
গাছটি দাঁড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেল হতেই মানুষের ঢল নামছে বচিয়ারা গ্রামে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। রোগ-বালাই থেকে মুক্তির আশায় গাছের শিকড় ও ছাল নিতে আসা এক নারী জানান, তিনি রোগমুক্তির আশায় এবং মানত পূরণের উদ্দেশ্যে দোয়া পড়ে শিকড় সংগ্রহ করতে এসেছেন।
স্থানীয় প্রতিবেশী আঁখি বেগম ও ফরিদ মুন্সী জানান, গাছটি মাটিতে পড়ে থাকার সময় তারা এর ওপর দিয়ে যাতায়াতও করেছেন। এখন এটি দাঁড়িয়ে যাওয়ায় তারা একে ধর্মীয় ভক্তি ও সম্মান প্রদর্শন করছেন।
গাছটি কাটার দায়িত্বে থাকা কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া বলেন, “গাছটি ঝড়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে শিকড়সহ উল্টে ছিল। মাটিতে থাকা অবস্থাতেই আমি গাছটি কাটতে শুরু করি। কিন্তু ডালপালা কাটার পর হঠাৎ করেই গাছটি আবার দাঁড়িয়ে যায়।” তবে তিনি একে অলৌকিক বা জিন-ভূতের আছর মানতে নারাজ হলেও সাধারণ মানুষের এই অতি-উৎসাহ এবং ভিড়কে তিনি স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, গাছের ডালপালা ও ওপরের ভারী অংশ কেটে ফেলার কারণে গোড়ার শিকড়ের টানে এবং ওজনের ভারসাম্যের কারণে এমনটি ঘটে থাকতে পারে। তবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যাই হোক না কেন, বচিয়ারা গ্রামের এই “দাঁড়িয়ে যাওয়া গাছ” আপাতত পুরো আখাউড়া জুড়ে এক পরম বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।