ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় কুড়িগ্রামের বিজিবি সদস্য নিহত উলিপুরে কছিম উদ্দিনের ৩৪তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে ভাওয়াইয়া ও সংগীতানুষ্ঠান সুনামগঞ্জের লাউড়েরগর গ্রামে আসাদ মিয়ার ঘর থেকে ৩০০ বোতল ফেনসিডিল,ফোসকাসহ ভারতীয় পণ্য জব্দ কলকাতার আগুনে নিভে গেল ৭ বাংলাদেশির প্রাণ, বেনাপোলে ফিরল ৫ মরদেহ—স্বজনদের আহাজারিতে ভারী সীমান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া কামনা বরিশালে বিমানবন্দরে এলাকায় ১০ কেজি গাঁজাসহ বাসযাত্রী গ্রে/প্তার ‎ ‎আইনে নিষেধ, বাস্তবে জমজমাট: পিরোজপুরে সরকারি শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্যের অভিযোগ, ওয়াকফ জমি রক্ষায় দুয়ারীপাড়ায় মানববন্ধন তালায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষ/ণচেষ্টা, যুবক আ/টক মক্কায় ডায়মন্ড প্রবাসী গ্রুপের সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বৃদ্ধা মারিয়ানি ২৬ বছর অর্থ সঞ্চয় করে হজ করলেন

ধর্ম ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ: ইন্দোনেশিয়ার ৬৪ বছরের বৃদ্ধা বিধবা নারী মারিয়ানি। দীর্ঘ ২৬ বছরের হার না মানা সংগ্রামে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। সংসারে চার সন্তানের লালন-পালনের পাশাপাশি হজের জন্য করেছেন দুঃসাহসী সংগ্রাম। সে সংগ্রামে সফল হয়ে এ বছর তিনি পালন করেছেন পবিত্র হজ। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

বৃদ্ধা মারিয়ানি বিধবা। চার সন্তান নিয়ে সংসার পরিচালনা করা তর জন্য অনেক কষ্টকর ছিল। সন্তান ও সংসারের হাল ধরতে ময়লা-আবর্জনা ও পরিত্যক্ত জিনিস সংগ্রহ করে তা বিক্রি করতেন। হজ করার প্রবল আগ্রহ নিয়ে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তিনি অল্প অল্প করে অর্থ জমা করতে থাকেন। এ বছরই পবিত্র হজ পালনের মাধ্যমে তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়।

গণমাধ্যমের কাছে তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‌১৯৮০ সালে তিনি তার স্বামীকে হারান। স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে নিয়ে তিনি কঠিন বিপদের সম্মুখীন হন। কীভাবে সংসার চালাবেন তা তিনি জানতেন না।

উপায়ন্তর না দেখে তিনি প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, কাডবোর্ড ও কাগজের কাপসহ পথে ঘাটে পড়ে থাকা আবর্জনা সংগ্রহ করতে শুরু করেন। সেগুলো পুনঃব্যবহারকারী কোম্পানির কাজে তা বিক্রি করেই সংসারের হাল ধরেন।

গণমাধ্যমকে তিনি আরও জানান, অনেক কঠিম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সংসার পরিচালনা করেছেন। ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করতেন। বর্ষাকালে তিনি বালু বিক্রি করতেন।

৬৪ বছরের এ বিধবা নারী গত ২৬ বছরে ২৫ মিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া সঞ্চয় করেন। ২০১৯ সালে হজ পালনের জন্য তিনি সর্বনিম্ন ২৩ মিলিয়ন রুপিয়া জমা করেন।

মারিয়ানির সন্তানরা এখন বড় হয়েছে। যারা এখন তার সব ব্যয়ভার বহন করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো বৃদ্ধা মারিয়ানির সন্তানরা জানতেনই না যে, তাদের মা হজের উদ্দেশ্যে অর্থ সঞ্চয় করে আসছিলেন।

এ বছরের এপ্রিল মাসে যখন তার মা হজে যাওয়ার জন্য ভিসা পেয়েছিলেন তখন তিনি তার সন্তানদের হজ ও জীবন সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেন। এটি ছিল তার জন্য সত্যিই বিস্ময়কর ব্যাপার। যে কারো জন্য অনুপ্রেরণামূলক কাজ। বর্তমানে তিনি সব কাজ ও কঠিন পরিশ্রম থেকে মুক্ত। তার বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান তাকে অভিভূত করে তোলে।

হজে যাওয়ার জন্য বিধবা বৃদ্ধা মারিয়ানিই প্রথম নন। এর আগেও একজন দীর্ঘ ৪৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে অর্থ সঞ্চয় করে হজ পালনে গিয়েছিলেন পবিত্র নগরী মক্কায়। সম্পন্ন করেছিলেন হজ। হজ পালন করতে গিয়ে তিনি মারা যান।

এদিক থেকে ৬৪ বছরের মারিয়ানি অনেক ভাগ্যবান। অর্থ সঞ্চয়ে ২৬ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে তিনি সম্পন্ন করেছেন পবিত্র হজ। বৃদ্ধা মারিয়ানি হোক মুসলিম উম্মাহর অনুপ্রেরণা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় কুড়িগ্রামের বিজিবি সদস্য নিহত

বৃদ্ধা মারিয়ানি ২৬ বছর অর্থ সঞ্চয় করে হজ করলেন

আপডেট টাইম : ০৫:২৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯

ধর্ম ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ: ইন্দোনেশিয়ার ৬৪ বছরের বৃদ্ধা বিধবা নারী মারিয়ানি। দীর্ঘ ২৬ বছরের হার না মানা সংগ্রামে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। সংসারে চার সন্তানের লালন-পালনের পাশাপাশি হজের জন্য করেছেন দুঃসাহসী সংগ্রাম। সে সংগ্রামে সফল হয়ে এ বছর তিনি পালন করেছেন পবিত্র হজ। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

বৃদ্ধা মারিয়ানি বিধবা। চার সন্তান নিয়ে সংসার পরিচালনা করা তর জন্য অনেক কষ্টকর ছিল। সন্তান ও সংসারের হাল ধরতে ময়লা-আবর্জনা ও পরিত্যক্ত জিনিস সংগ্রহ করে তা বিক্রি করতেন। হজ করার প্রবল আগ্রহ নিয়ে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তিনি অল্প অল্প করে অর্থ জমা করতে থাকেন। এ বছরই পবিত্র হজ পালনের মাধ্যমে তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়।

গণমাধ্যমের কাছে তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‌১৯৮০ সালে তিনি তার স্বামীকে হারান। স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে নিয়ে তিনি কঠিন বিপদের সম্মুখীন হন। কীভাবে সংসার চালাবেন তা তিনি জানতেন না।

উপায়ন্তর না দেখে তিনি প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, কাডবোর্ড ও কাগজের কাপসহ পথে ঘাটে পড়ে থাকা আবর্জনা সংগ্রহ করতে শুরু করেন। সেগুলো পুনঃব্যবহারকারী কোম্পানির কাজে তা বিক্রি করেই সংসারের হাল ধরেন।

গণমাধ্যমকে তিনি আরও জানান, অনেক কঠিম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সংসার পরিচালনা করেছেন। ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করতেন। বর্ষাকালে তিনি বালু বিক্রি করতেন।

৬৪ বছরের এ বিধবা নারী গত ২৬ বছরে ২৫ মিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া সঞ্চয় করেন। ২০১৯ সালে হজ পালনের জন্য তিনি সর্বনিম্ন ২৩ মিলিয়ন রুপিয়া জমা করেন।

মারিয়ানির সন্তানরা এখন বড় হয়েছে। যারা এখন তার সব ব্যয়ভার বহন করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো বৃদ্ধা মারিয়ানির সন্তানরা জানতেনই না যে, তাদের মা হজের উদ্দেশ্যে অর্থ সঞ্চয় করে আসছিলেন।

এ বছরের এপ্রিল মাসে যখন তার মা হজে যাওয়ার জন্য ভিসা পেয়েছিলেন তখন তিনি তার সন্তানদের হজ ও জীবন সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেন। এটি ছিল তার জন্য সত্যিই বিস্ময়কর ব্যাপার। যে কারো জন্য অনুপ্রেরণামূলক কাজ। বর্তমানে তিনি সব কাজ ও কঠিন পরিশ্রম থেকে মুক্ত। তার বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান তাকে অভিভূত করে তোলে।

হজে যাওয়ার জন্য বিধবা বৃদ্ধা মারিয়ানিই প্রথম নন। এর আগেও একজন দীর্ঘ ৪৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে অর্থ সঞ্চয় করে হজ পালনে গিয়েছিলেন পবিত্র নগরী মক্কায়। সম্পন্ন করেছিলেন হজ। হজ পালন করতে গিয়ে তিনি মারা যান।

এদিক থেকে ৬৪ বছরের মারিয়ানি অনেক ভাগ্যবান। অর্থ সঞ্চয়ে ২৬ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে তিনি সম্পন্ন করেছেন পবিত্র হজ। বৃদ্ধা মারিয়ানি হোক মুসলিম উম্মাহর অনুপ্রেরণা।


প্রিন্ট