খুলনা প্রতিনিধি:
টানা ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ‘শেখ পরিবারের’ নাম ভাঙিয়ে এবং শীর্ষ নেতাদের সাথে লিয়াজোঁ করে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে সাধারণ শ্রমিকদের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পরও ইউনিয়নের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব বহাল তবিয়তে থাকায় সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
আরো অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নকে মূলত দলটির একটি অঙ্গসংগঠনে পরিণত করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বী শ্রমিকদের মিছিল-মিটিং এবং নানামুখী নির্যাতনের মাধ্যমে ইউনিয়ন থেকে বিতাড়িত করা হয়।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সরকার পতনের পরও সেই একই চক্র, বিশেষ করে , মতিউর রহমান মতি (কার্যকরী সভাপতি ) মোঃ মাসুদ (সাংগঠনিক সম্পাদক) ও আব্দুল হালিম (ক্যাশিয়ার ) গ্যাং, এখনো পর্যন্ত বহাল তবিয়তে মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।
সাধারণ শ্রমিকদের প্রশ্ন ,শেখ হাসিনার চেয়েও কি এদের ক্ষমতা বেশি? নাকি এদের পেছনে অন্য কোনো অদৃশ্য অপশক্তি রয়েছে, যার কারণে এত এত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকার পরও তারা এখনো বহাল তবিয়তে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ শ্রমিকদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ শ্রমিকদের এক প্রকার জিম্মি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে এখনো জোরপূর্বক এর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে একটি নির্দিষ্ট মহল।
প্রতিদিন শ্রমিকদের কল্যাণের নামে প্রায় ১ লক্ষ টাকা ফান্ডে জমা হলেও, সাধারণ শ্রমিকরা এর কোনো সুফল বা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না। এই বিপুল পরিমাণ টাকা শ্রমিকদের উন্নয়নে ব্যয় না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভোগদখল করছে বর্তমান পরিচালনা কমিটি।
মুখ খুললেই মারধর ও বহিষ্কারের হুমকি
সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ, এই বিশাল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে কেউ যদি কোনো প্রতিবাদ বা প্রশ্ন তুলতে যায়, তবে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করা হয়।
এমনকি প্রতিবাদী শ্রমিকদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না এবং কেউ মুখ খুলতে চাইলে তাকে ইউনিয়ন থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
ভুক্তভোগী ও সাধারণ শ্রমিকরা বর্তমানে এই চাঁদাবাজ ও স্বৈরাচারের দোসরদের হাত থেকে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নকে মুক্ত করতে এবং ফান্ডের টাকার সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।