ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোদাগাড়ীতে র‌্যাব-৫ এর অভিযান পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রায় ৯০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হিলি স্থলবন্দরে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ,বিপাকে ব্যবসায়ী ও শ্রমীকরা কালিয়াকৈরে অভিযান: ১১০টি কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস মহান ঈদে আজম উদযাপন উপলক্ষে সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত। টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বাবা হত্যা করলো ছেলে গোবিন্দগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে সাইনবোর্ড যেখানেই যাচ্ছেন মানুষের সাড়া ও ভালোবাসা পাচ্ছেন: হাফেজ মোঃ খাইরুল ইসলাম মুন্সি নরসিংদীতে বিশেষ অভিযানে ২৩৭ গ্রেফতার, বিপুল অস্ত্র-মাদক ও অবৈধ পণ্য উদ্ধার” বিপিএল সিজন ৫ এর ২৪ তম ম্যাচ অনুষ্ঠিত মিশাল মন্ডলকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন‘তিনি মাদক কারবারি নন, সংশোধনের লক্ষ্যেই পরিবার পুলিশে দিয়েছিল

ফরিদপুরে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারনার অভিযোগ প্রবাসী রফিকের বিরুদ্ধে—নেপথ্যে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

 

বিশেষ প্রতিনিধি
স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মীমাংসার নামে চাপ, রাত ২টায় এলাকা ছাড়ার নির্দেশ ও প্রাণনাশের হুমকি।

ফরিদপুরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক প্রবাসী নারীর কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা নেওয়া, পরে বিয়ে না করার অভিযোগ এবং ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার নামে ভুক্তভোগীর ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সৌদি আরব প্রবাসী মো. রফিক ফকিরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পক্ষ।

ভুক্তভোগী সখিনার অভিযোগ, প্রায় ১৮ মাস ধরে রফিকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের একপর্যায়ে পারিবারিক সমস্যা ও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে রফিক ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। সখিনার দাবি, এসব টাকা নেওয়ার সময় তাকে বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

তার আরও অভিযোগ, সম্পর্কের সময় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয় এবং পরে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার ক্ষেত্রেও রফিক তাকে দ্রুত বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই আশ্বাসে বাংলাদেশে ফেরেন সখিনা। তবে দেশে ফেরার ১৭ দিন পর রফিক দেশে এলেও পরবর্তীতে নানা অজুহাতে বিয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন বলে অভিযোগ তার।

পরিবারকে বিষয়টি জানালে আত্মীয়স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে সখিনা রফিকের বাড়িতে যান। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। রফিকের চাচা, চাঁদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেম্বার মো. মন্টু মিয়া তাদের ফরিদপুর কোর্ট চত্বরে আলোচনার জন্য ডাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, পরে রফিকের পরিবারের বাসায় আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং মীমাংসার পরিবর্তে সখিনা ও তার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সখিনার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। এছাড়া ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো ঝামেলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ঘটনার সঙ্গে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. রাদিন, ফরিদপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. মোস্তফার নামও ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে মীমাংসার নামে চাপ প্রয়োগ বা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তোলা হলেও এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

ভুক্তভোগী সখিনা বলেন, “কারও রাজনৈতিক পরিচয় আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি চাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। সত্য প্রমাণিত হলে যার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন, আইন অনুযায়ী সেটাই করা হোক।”

তিনি তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগের তদন্ত এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে অর্থ লেনদেনের তথ্য, যোগাযোগের রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ। অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গোদাগাড়ীতে র‌্যাব-৫ এর অভিযান পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রায় ৯০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার

ফরিদপুরে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারনার অভিযোগ প্রবাসী রফিকের বিরুদ্ধে—নেপথ্যে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

আপডেট টাইম : ০৯:২৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

 

বিশেষ প্রতিনিধি
স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মীমাংসার নামে চাপ, রাত ২টায় এলাকা ছাড়ার নির্দেশ ও প্রাণনাশের হুমকি।

ফরিদপুরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক প্রবাসী নারীর কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা নেওয়া, পরে বিয়ে না করার অভিযোগ এবং ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার নামে ভুক্তভোগীর ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সৌদি আরব প্রবাসী মো. রফিক ফকিরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পক্ষ।

ভুক্তভোগী সখিনার অভিযোগ, প্রায় ১৮ মাস ধরে রফিকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের একপর্যায়ে পারিবারিক সমস্যা ও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে রফিক ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। সখিনার দাবি, এসব টাকা নেওয়ার সময় তাকে বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

তার আরও অভিযোগ, সম্পর্কের সময় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয় এবং পরে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার ক্ষেত্রেও রফিক তাকে দ্রুত বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই আশ্বাসে বাংলাদেশে ফেরেন সখিনা। তবে দেশে ফেরার ১৭ দিন পর রফিক দেশে এলেও পরবর্তীতে নানা অজুহাতে বিয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন বলে অভিযোগ তার।

পরিবারকে বিষয়টি জানালে আত্মীয়স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে সখিনা রফিকের বাড়িতে যান। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। রফিকের চাচা, চাঁদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেম্বার মো. মন্টু মিয়া তাদের ফরিদপুর কোর্ট চত্বরে আলোচনার জন্য ডাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, পরে রফিকের পরিবারের বাসায় আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং মীমাংসার পরিবর্তে সখিনা ও তার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সখিনার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। এছাড়া ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো ঝামেলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ঘটনার সঙ্গে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. রাদিন, ফরিদপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. মোস্তফার নামও ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে মীমাংসার নামে চাপ প্রয়োগ বা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তোলা হলেও এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

ভুক্তভোগী সখিনা বলেন, “কারও রাজনৈতিক পরিচয় আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি চাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। সত্য প্রমাণিত হলে যার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন, আইন অনুযায়ী সেটাই করা হোক।”

তিনি তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগের তদন্ত এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে অর্থ লেনদেনের তথ্য, যোগাযোগের রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ। অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।


প্রিন্ট