বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০২:০৩ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান

আরও একটি ২৮ অক্টোবর, কী পরামর্শ বিশ্লেষকদের

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৪৩ বার পঠিত

ঢাকায় ২৮ অক্টোবরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে কথার লড়াই; আছে উত্তেজনাও। এদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুদলই সমাবেশের মাধ্যমে জানান দিতে চায় নিজেদের জনভিত্তি। বিশ্লেষকরা বলছেন, আদর্শিক দ্বন্দ্ব স্বাভাবিক; কিন্তু তা যেন মাঠে বিশৃঙ্খলা না ছড়ায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত দুদলেরই।

বাংলদেশের রাজনীতিতে ২৮ অক্টোবর আছে একটি মাইলফলক হয়ে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতার শেষ দিন ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের। ওইদিন রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে সমাবেশ ডেকেছিল বিএনপি জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী। পল্টনে ডেকেছিল আওয়ামী লীগ।

কিন্তু পুলিশি বাধায় সমাবেশ করতে না পেরে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর দলীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল নিয়ে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে বাধার মুখে পড়ে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের। শুরু হয় সংঘর্ষ।

২৯ অক্টোবর নজিরবিহীনভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন। এর প্রতিবাদে শুরু হয় ব্যাপক আন্দোলন।

সাত বছর পর ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর টানা ৬০ ঘণ্টার হরতাল ডাকে বিএনপি-জামায়াত জোট।

দশ বছর পর ২০২৩ সালে এসে আরও একটি ২৮ অক্টোবর; উত্তেজনার তুঙ্গে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন।

রাজধানীর নয়াপল্টনে ২০ থেকে ৪০ লাখ লোক জড়ো করার পূর্ব ঘোষণা থেকে সরে এসে বিএনপি পুলিশের কাছে দেয়া চিঠিতে বলছে, সোয়া লাখ লোক জড়ো করতে চান তারা। আওয়ামী লীগ বলছে, তাদের সমাবেশ হবে ২ লাখ লোকের। দুই দলই আঁটঘাট বেঁধে নেমেছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুদলের আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠেছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে দুদলকেই সহনশীল হতে হবে। রাজনীতিতে বিরোধ থাকবে, সে বিরোধ মীমাংসা হোক আলোচনার টেবিলে, রাজপথে নয় – এমনটাই প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি দুটি পরস্পরবিরোধী আদর্শিক ধারায় বিভক্ত। এ দুটি দলের মধ্যে সমন্বয় ঘটা সম্ভব না। তাহলে কী দাঁড়াবে? আদর্শিক এ বিভক্তির মধ্যেও আবার একটা ওয়ার্কিং রিলেশন থাকতে পারে। যেমন একটা নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন কীভাবে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) মবিলাইজেশন করছে। এটা হচ্ছে তাদের ক্ষমতা দেখানোর জন্য। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা থাকবে, উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে তাদের এ সমাবেশ সম্পন্ন করবে। জনজীবন যেন কোনোভাবেই বিপন্ন না হয়।’

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এসএম আমানউল্লাহ বলেন, ‘শুধু সংলাপের মাধ্যমে কোনো একটা সমাধানের দিকে আমরা যেতে পারবো, সেটা কিন্তু মনে হচ্ছে না।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এসএম আমানউল্লাহ আরও বলেন, রাজনৈতিক সংকটে সবাই চাইবে তাদের নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে। তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি যে অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা যাই করবেন, তাতে দেশের স্বার্থটা মাথায় রেখে কর্মসূচিগুলো পালন করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com