মীর ইমরান মাহমুদ, উপজেলা প্রতিনিধি :
ভদ্রতার মুখোশের আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে বছরের পর বছর ভয়ংকর অর্থ আত্মসাৎকারী জেলেখা তার কুকর্ম চালিয়ে গেলেও তাকে থামানোর কি কেও নেই? এমন প্রশ্ন এলাকার সাধারণ জনগণের।
তালা উপজেলার মহান্দী গ্রামের মৃত আবুল শেখ এর মেয়ে জুলেখা বেগম এলাকার সাধারণ ও দরিদ্র মানুষদেরকে সরকারী চাউল, টিন, নগদ টাকা সহ অন্যান্য বিভিন্ন সরকারী অনুদান পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবি সহ বিভিন্ন খরচের কথা বলে বড় অঙ্কের টাকা নেয়। টাকা নেওয়ার সময় সে তদেরকে বলে যে, সাতক্ষীরার জেলা প্রসাশক কিম্বা ইউএনওকে আমি যা বলি তাই হয়ে যায়, তোমরা নিশ্চিত থাকো তোমাদেরকে যে সব জিনিস পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেছি তা আমি জেলা কিম্বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে থেকে নিয়ে দেবো, তবে শর্ত হলো যে সব জিনিস কিম্বা টাকা পাবা তার তিন ভাগের দুই ভাগ আমাকে দিয়ে দিতে হবে। গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলে তার কথা বিশ্বাস করে ভাবে কম হোক বেশী হোক যা পাবো তাই লাভ। এই ভাবনা থেকে প্রাথমিক ভাবে টাকা প্রদান করে। কিছু কিছু মানুষের নামে সরকারী টিন কিম্বা বিভিন্ন অনুদান আসলেও তার তিনভাগের দুইভাগ সে নিজেই আত্মসাত করে। আর বেশীরভাগ মানুষের কপালে কিছুই জোটেনা। প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে নেওয়া খরচের টাকা সে কখনও ফেরৎও দেয়না । দরিদ্র মানুষেরা যখন এই বিষয়ে জানতে চাই সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় কিসের টাকা ? চেষ্টা করেছিলাম হয়নি এখন আমার কিছু করার নেই , যে যা পারো করো গিয়ে। অসুস্থ মানুষকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দেওয়া, গরীব মানুষের ঘর বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় অনুদান নিয়ে দেওয়া, এমনকি বৃদ্ধ মানুষকে বয়স্কভাতার টাকা এনে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে সুকৌশলে বছরের পর বছর ধরে প্রতারণা করে এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা অত্মসাৎ করে যাচ্ছে এই জেলেখা। বারুইহাটী গ্রামের দিনমজুরের স্ত্রী পারভীনা, আটারই গ্রামের লিলিমা, রহিমাবাদের বৃদ্ধা রাবেয়া, তালা সদরের রাশিদা, রজব আলী ইসলামকাটি গ্রামের ক্ষান্ত বিবি, পরানপুর গ্রামের মইনুল ইসলাম, নাংলা গ্রামের কৃষক হাসেম আলী সহ অগনিত মানুষের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদেরকে সরকারী অনুদানের লোভ দেখিয়ে টাকা পয়সা নিয়ে এখন তার সাথে কথা বলতে গেলে উল্টো গরম দেয়। আমরা এর বিচার চাই। জেলেখার তার সৎ বোন লিলিমার সাথে মিলে তালা উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামের মৃত আনার আলী জমাদ্দার এর ছোট পুত্র বিদেশ ফেরৎ কোহিনুর জমাদ্দার নিকট থেকে স্বর্ণের গহনা নগট টাকা সহ প্রায় ৩৪০০,০০০/- (চৌত্রিশ লক্ষ) টাকা অতœসাৎ করে যা এলাকার বেশীরভাগ মানুষ জানে, যার কারণে কোহিনুর সর্বশান্ত হয়ে এখন পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। খোজ নিয়ে জানা গেছে জেলেখা এর আগে তার এলাকায় দুইবার মেম্বর পদে নির্বাচন করে ফেল করলেও সামনের নির্বাচনে আবারও নির্বাচন করবে। ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রতারণা করে মানুষের নিকট থেকে অর্থ আতœসাৎ করা যার পেশা সে আবার মেম্বর হয়ে জনসেবা এটা তামাশা ছাড়া আর কিছুইনা। জেলেখা বেগম প্রতারণা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া ও সরকারী টাকা সম্পদ অতœসাৎ করে আওয়ামী সরকার আমলের জেলেখার বোন জামাই আওয়ামী ক্যাডার সিরাজুলের সহযোগিতায় ও তার ক্ষমতার দাপটে পার পেয়ে যেতো, কিন্তু বিগত সরকার বিদায় নিলেও এখনও প্রশাসনের নাকের ডোগায় বসে কিভাবে এই প্রতারণার ব্যবসা চালিয়ে যায় সেই প্রশ্ন ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর। তারা বলেন আমরা অনতিবিলম্বে প্রতারক জেলেখাকে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওয়ায় এনে বিচারের দাবী জানাই।