কলকাতা থেকে লুতুব আলীর রিপোর্টঃ
সমগ্র পৃথিবী যখন যুদ্ধের আশঙ্কা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আবহে অস্থির, তখন মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার মহেশপুর জুনিয়র বেসিক স্কুল। হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিদ্যালয়টিতে আয়োজিত বসন্ত উৎসব হয়ে উঠেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত এই বসন্ত উৎসবে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের দোল উৎসবকে ঘিরে নানা সময়ে স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি হলেও, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পবিত্র রঙের মাধ্যমে ভেদাভেদ ভুলে মিলনের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
উৎসবে অতিরিক্ত আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা প্রশিক্ষণ সংস্থার প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীরা, যারা বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্র্যাকটিস টিচিং করছেন। তারা বিদ্যালয়ের ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বসন্ত উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষা কর্মী, অভিভাবক এবং স্থানীয় এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ঐতিহ্যবাহী লাঠি নাচের মধ্য দিয়ে। এতে রাধার ভূমিকায় অভিনয় করে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শবনম খাতুন এবং কৃষ্ণের ভূমিকায় অভিনয় করে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র প্রেম বিশ্বাস। তাদের অভিনয় উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।
এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা প্রশিক্ষণ সংস্থার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সিনিয়র লেকচারার প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন ঘটাতে এবং সমাজে ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিতে মহেশপুর জুনিয়র বেসিক বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি আরও বলেন, অবক্ষয়ী সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই যদি এ ধরনের সম্প্রীতির শিক্ষা দেওয়া যায়, তবে তা ভবিষ্যতে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যত প্রজন্মকে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে পথ চলার শিক্ষা দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। বসন্ত উৎসবের এই আয়োজন এলাকায় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।