নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাহান হক এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার আশপাশকে ধর্ষণের ঘটনাস্থল হিসেবে ধরে আলামত সংগ্রহের কাজ করছে। ডিবি উত্তরের উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্ষণের আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা নিশ্চিত নই, সেখানেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, নাকি অন্য কোথাও নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে।’
ধর্ষণের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মামা জানান, ঠিক কোথায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তা তাঁরা এখনো জানতে পারেননি। ভাগনি মা-বাবা ও তাঁর (মামা) সঙ্গে হাসপাতালে কথা বলেছেন। তিনি (ভাগনি) জানান, শেওড়া যাওয়ার সময় ভুল করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কাছে নেমে পড়েছিলেন। হাসপাতালের আশপাশেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
গুলশান থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তাঁরা ঘটনাস্থলটি খুঁজে দেখছেন। ঘটনাস্থলের ওপর ভিত্তি করে কোন থানা কাজ করবে, তা নির্ধারণ হবে।
গতকাল রোববার গভীর রাতে ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। তাঁকে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
ওসিসি সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রীকে ধর্ষণের সব আলামত পাওয়া গেছে। আগে থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা ছিল। ধর্ষণের সময় মারধর করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নেই।
ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। ছয় সদস্যের ওই কমিটির নেতৃত্বে আছেন গাইনি বিভাগের অধ্যাপক সালমা রউফ।
ওই ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একটি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
ছাত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর বলেন, কুর্মিটোলায় বান্ধবীর বাসায় যেতে গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ওঠেন। বাস থেকে কুর্মিটোলা এলাকায় নামার পর অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তাঁর মুখ চেপে ধরে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। রাত ১০টার দিকে চেতনা ফেরার পর তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বান্ধবীর বাসায় যান। বান্ধবীকে ঘটনা জানান। এরপর সহপাঠীরা তাঁকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেয়া হয়।
গত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক হাসপাতালে যান এবং ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24