সিটিজেন প্রতিবেদক: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত ‘টু-স্টেট সল্যুশন’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মধ্যে বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি আসে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের নেতারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করেছেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া, শিগগিরই উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে যোগাযোগ ও মানুষে-মানুষে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়েও একমত হয়েছেন তারা।
বৈঠকে গাজায় চলমান মানবিক সংকট এবং ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই নেতা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অটল সংহতি জানিয়ে চলমান সম্মেলন থেকে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক বরফ গলতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের প্রতি কড়া অবস্থান রাখা ঢাকার আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে নতুন সরকারের শাসনামলে। ফলে দুই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণ এশীয় দেশের মধ্যে বাস্তবমুখী ও অগ্রগতিমূলক সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।
এই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি ঢাকায় তার বাংলাদেশি সমকক্ষ (স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা) লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকারে এক ঐতিহাসিক চুক্তি হয়, যা ভবিষ্যতের বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনপ্রভাবিত নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতায়, এবং সার্কের মতো ঐতিহ্যবাহী জোটগুলোর গুরুত্ব কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিকে পুনর্বিন্যাস করছে।
উভয় দেশই এখন অতীতের টানাপড়েনের বাইরে এসে উন্নয়ন, বাণিজ্য ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে ইস্যুভিত্তিক সহযোগিতা গড়ার দিকে মনোযোগী হচ্ছে।
সম্প্রতি পাকিস্তান তার দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। মুসলিম বিশ্বের ঐক্য দৃঢ়করণ এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ অস্থায়ীভাবে পাকিস্তানি কূটনীতিক ও পণ্যের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি এনেছে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24