নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে প্রশাসনের অন্ধ সমর্থন, নগ্ন হস্তক্ষেপ, নির্বাচনি কাজে উদাসীনতা ও 'প্রার্থীর নিরাপত্তা সংকটের কথা জানিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারী রাত ৯: ৩০ ঘটিকায় নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন ২৯৮নং খাগড়াছড়ি আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে হারিকেন প্রতীকের প্রার্থী মোঃ মোস্তফা।
এসময় তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন। গত ০৮ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ্য করে জেলা প্রশাসক/জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা বরাবর একজন গানম্যানের আবেদন করেন। আবেদন গ্রহণ হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা/ জেলা প্রশাসক কোনোরূপ পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। এতে প্রশাসনের উদাসীনতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এসময় তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর থেকে খাগড়াছড়িতে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী প্রচার - প্রচারণা করে আসছে ক্ষমতাধর কিছু প্রার্থী। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের দিয়ে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করিয়ে ক্ষমতাধর প্রার্থীগণ প্রচার প্রচারণা করা করিয়ে আসছিলো। আমি সরকারি কর্মচারী কর্তৃক আচরণ বিধি লঙ্ঘন এর বিচার চেয়ে গত ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ খাগড়াছড়ি ( দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক) নির্বাচনি অপরাধ এবং নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত "নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি" বরাবর লিখিত আবেদন করি। আবেদনের ৪৮ ঘন্টা পার হয়ে গেলে উক্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি বা কোনোরূপ বিচার হয়নি। অথচ আমার আবেদনের একদিন পরে হওয়া অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। অনুসন্ধান কমিটি ইচ্ছাকৃতভাবে কালক্ষেপন করছে এবং আমার অভিযোগে উল্লেখিত ব্যক্তিগন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কার্মকর্তা কর্মচারি হওয়ায় এবং জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় বিচারিক আদালত পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ বিধি লংঘনের ভিডিও এবং ছবি থাকার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারক আদালত কালক্ষেপণের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করিয়ে অবৈধভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়লাভে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছেন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ অত্র অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জেলা পরিষদের হস্তক্ষেপে অত্র জেলার সম্পূর্ণ প্রশাসনিক কাঠামোকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের মনগড়া মোতাবেক চালাতে পারে। আমার অভিযোগে জেলা পরিষদ সদস্য ও কর্মকর্তাগণ রয়েছেন তাই এই নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হওয়ার কোনোরূপ সম্ভাবনা নাই।কারন যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছে, তাদেরকে নির্বাচনের দিনের জন্য বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব সরকারি কর্মচারী দ্বারা নিরপেক্ষ ভোট আশা করা যায় না। আদালত কালক্ষেপণ মূলক আচরণ করে জেলাপরিষদ সদস্য ও কর্মকর্তা কর্মচারিদের রক্ষা করছেন। আমি ৮ ই ফেব্রুয়ারি তারিখের পূর্বেও জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা / জেলা প্রশাসক মহোদয়কে মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছি তিনি কোনোরূপ কর্ণপাত করেন নাই। আমি একজন প্রার্থী হিসাবে প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার চেয়েও পাইনি। আমার অভিযোগের বিচার করে দোষীদের শাস্তি প্রদান পূর্বক ও প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করা নিশ্চিতকরণ পূর্বক নির্বাচন স্থগিত রাখার আহবান জানিয়ে উচ্চ আদালতের দারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন তিনি।
হারিকেন মার্কা প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, খাগড়াছড়িতে এই প্রশাসনের মাধ্যমে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। খাগড়াছড়ি জেলার ১৮৯টি কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ সবগুলো কেন্দ্র ক্ষমতাধর প্রার্থী দখল করে দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। খাগড়াছড়িতে নির্বাচনি রেজাল্ট পরিবর্তনেরও তথ্য রয়েছে তাই আমি পূনরায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করবো, উচ্চ আদালতে রায় নিয়ে পক্ষপাতমূলক নির্বাচন ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বাস্তবায়ন করতে যাওয়া প্রশাসনের অপসারণের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাস্তবায়ন পর্যন্ত সকলকে শান্ত থাকার আহবান জানান।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24