হাফসা আক্তারঃ
রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)–র সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য বিতরণকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। পণ্য স্বল্পতার কারণে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই পণ্য পাননি। হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কিতে অন্তত তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তবু মিলছে না পণ্য
রমজান উপলক্ষে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য টিসিবি ভর্তুকিমূল্যে তেল, ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, চাহিদার তুলনায় পণ্য বরাদ্দ কম হওয়ায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সকালে নির্ধারিত স্থানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ বিক্রয়স্থল পরিবর্তনের ঘোষণা দিলে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা বিপাকে পড়েন। অনেকেই অভিযোগ করেন, কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর ট্রাক এলে ধাক্কাধাক্কিতে লাইনের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। ফলে যারা আগে থেকে অপেক্ষা করছিলেন, তারাও পণ্য পাননি।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, গত বছরের মতো সিরিয়াল স্লিপ বা টোকেন ব্যবস্থা না থাকায় বিশৃঙ্খলা বেড়েছে। ধাক্কাধাক্কি করে যে আগে দাঁড়াতে পারছে, সেই আগে পণ্য পাচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।
প্যাকেজ সীমিত, চাহিদা দ্বিগুণ
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫৯০ টাকায় পাঁচ ধরনের পণ্যের একটি নির্ধারিত প্যাকেজ বিক্রি করা হচ্ছে। এতে রয়েছে—
২ লিটার ভোজ্যতেল
২ কেজি মসুর ডাল
১ কেজি চিনি
১ কেজি ছোলা
৫০০ গ্রাম খেজুর
কিন্তু একটি ট্রাকে মাত্র ৪০০ জনের জন্য পণ্য থাকায়, সেখানে ৬০০–৭০০ জন পর্যন্ত ভিড় করছেন। ফলে অনেকে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
ডিলারের ব্যাখ্যা, জনমনে প্রশ্ন

ডিলারদের দাবি, আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ট্রাক আসতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে বিক্রি শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা বলছেন, গত বছরের মতো একাধিক পয়েন্টে একসঙ্গে বিক্রি করা গেলে চাপ কমতো।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ডিলার সীমিত পরিমাণ পণ্য বিতরণ করে বাকিটা খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন—যদিও এ অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি।
প্রশ্ন উঠেছে—সরকার কি পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিচ্ছে না, নাকি মাঠপর্যায়ে ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে? সরকারিভাবে পর্যাপ্ত মজুদের কথা বলা হলেও বাস্তবে সরবরাহ সংকট ও অনিয়মের অভিযোগে মানুষের আস্থা কমছে।
সারাদেশেই একই চিত্র?

শুধু উত্তরা নয়, বিভিন্ন জেলা শহর ও পৌর এলাকায় একই ধরনের ভোগান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর সীমিত পয়েন্টে পণ্য বিক্রি করায় নিম্ন আয়ের মানুষ একসঙ্গে ভিড় করছেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও কখনো কখনো নাজুক হয়ে উঠছে।
খেটে খাওয়া মানুষের আহাজারি
রমজানের মতো সংযম ও সহমর্মিতার মাসে দুবেলা দুমুঠো খাবারের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে। বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিরাই বেশি বিপাকে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি—
টোকেন/সিরিয়াল ব্যবস্থা চালু করা
একাধিক পয়েন্টে একযোগে বিক্রি
পর্যাপ্ত পণ্য বরাদ্দ
ডিলারদের ওপর কঠোর নজরদারি
অন্যথায় ভর্তুকিমূল্যের এই উদ্যোগ বাস্তব সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাবে না বলেই আশঙ্কা করছেন তারা।

রমজানে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে নেওয়া উদ্যোগ যেন নতুন করে তাদের হয়রানি ও অপমানের কারণ না হয়—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24