
যশোরের নওয়াপাড়া নদীবন্দর এলাকায় লাইটার জাহাজসমূহকে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহার প্রতিরোধে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের গঠিত টাস্কফোর্স আজ একটি অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে।
অভিযানে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের স্পেশাল অফিসার (মেরিন সেফটি) রোকসানা খাইরুন নেছা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর, খুলনার পরিদর্শক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং সংশ্লিষ্ট নৌপুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেন।
অভিযানকালে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আগত গম, মসুরী, সার ও সালফেট বহনকারী ২৬টি এবং মোংলা বন্দর থেকে আগত সার ও কয়লা বহনকারী ১৫টি সহ মোট ৪১টি লাইটার জাহাজ পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আগত জাহাজের মধ্যে ২০ দিনের অধিক অপেক্ষমাণ ২টি জাহাজ খালাসরত অবস্থায় রয়েছে। ১০ দিনের অধিক অপেক্ষমাণ ছিল ৮টি জাহাজ (এর মধ্যে ২টি খালাসরত), ৫ দিনের অধিক অপেক্ষমাণ ছিল ৩টি জাহাজ (এর মধ্যে ১টি খালাসরত) এবং ৫ দিনের কম অপেক্ষমাণ ছিল ১৩টি জাহাজ (এর মধ্যে ৩টি খালাসরত)।
অন্যদিকে মোংলা বন্দর থেকে আগত জাহাজের মধ্যে ২০ দিনের অধিক অপেক্ষমাণ ছিল ১টি, ১০ দিনের অধিক অপেক্ষমাণ ছিল ৩টি (এর মধ্যে ১টি খালাসরত), ৫ দিনের অধিক অপেক্ষমাণ ছিল ৭টি (এর মধ্যে ২টি খালাসরত) এবং ৫ দিনের কম অপেক্ষমাণ ছিল ৪টি জাহাজ (এর মধ্যে ২টি খালাসরত)।
অভিযানকালে যেসব জাহাজ ৭ দিনের বেশি সময় ধরে অপেক্ষমাণ থাকলেও এখনো আনলোডিং ঘাট বা নির্ধারিত তারিখ পায়নি, সেসব জাহাজ দ্রুত খালাসের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
১০ দিনের বেশি সময় জাহাজ অপেক্ষমাণ রাখার দায়ে মালামালের দুই কনসাইনি প্রতিষ্ঠান এস এস শিপিং ও নোয়াপাড়া ট্রেডিংকে কৃষি পণ্য বিপণন আইনের ১৯(ঠ) ধারা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানের সময় নোয়াপাড়া নদীবন্দর এলাকায় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সকল ঘাটে পণ্য খালাস কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চলমান রয়েছে এবং কোনো ঘাট খালি হওয়া মাত্রই নতুন জাহাজ এসে ভিড়ছে। তবে পণ্যবোঝাই লাইটার জাহাজের তুলনায় ঘাটের সংখ্যা কম হওয়ায় পণ্য খালাসে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যশস্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে খালাস করা হওয়ায় এতে তুলনামূলক বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর জানিয়েছে, লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার প্রতিরোধ এবং বন্দর এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24