
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তারও ভূমিকা থাকা উচিত।
বৃহস্পতিবার তিনি এমন এক সময়ে এই দাবি তুললেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সংঘাত বৈশ্বিক রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণের উপশহরগুলোতে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে। এর আগে ওই এলাকা সম্পূর্ণ খালি করার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়। এতে আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
সংঘাতের প্রভাব দূরবর্তী এলাকাতেও পড়েছে। শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে একটি মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো নিক্ষেপ করে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে আজারবাইজানের এক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার পর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটি।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনিকে তার নিহত পিতার স্থলাভিষিক্ত সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি তাকে ‘দুর্বল ও অযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন।
অ্যাক্সিওস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে অবশ্যই অংশ নিতে চাই, যেমনটি ভেনেজুয়েলায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ক্ষেত্রে করেছি।’
তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পর সেখানে ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতায় এসেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘খামেনির ছেলে আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য। আমরা এমন একজন নেতাকে চাই, যিনি ইরানে সম্প্রীতি ও শান্তি আনতে পারবেন।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, বেছে নেওয়ার মতো এমন নেতা না পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় যুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে।
এই মন্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প পুরো সরকার উৎখাতের পরিবর্তে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ভেতরের কোনো ব্যক্তিকে নিয়েই কাজ করতে আগ্রহী। যদিও তিনি বারবার সাধারণ ইরানিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন যাতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24