নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের দীর্ঘ ছুটি সামনে রেখে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার পর্যটক বরণে প্রস্তুত রয়েছে। দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে জমে উঠবে কক্সবাজার। এতে ঈদের দশ দিনে প্রায় শতকোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
নীল সমুদ্র, পাহাড়ের ছায়া আর বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি মিলিয়ে এটি যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত চিত্র। তাই এবারের ঈদে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসার জন্য এটি হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য। তবে শুধু লাবণী, সুগন্ধা বা কলাতলী সৈকতেই সীমাবদ্ধ না থেকে খুঁজে নিতে পারেন ভিন্নতা-উপভোগ করতে পারেন নির্জন সৈকত, সমুদ্র-পাহাড়ের মিতালি আর আশপাশের মনোমুগ্ধকর দ্বীপগুলো। তার জন্য ঈদের আগেই পর্যটকদের বরণ করতে সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে ৯ লাখ ৭০ হাজার পর্যটক ভ্রমণে এসেছিলেন কক্সবাজারে। এবারের ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিন থেকে হোটেল-মোটেলগুলো বুকিং হয়েছে। ঈদের ছুটি ২৩ মার্চ পর্যন্ত হলেও ৩০ মার্চ পর্যন্ত টানা কক্ষ বুকিং রয়েছে বেশির ভাগ হোটেলে। ইতোমধ্যে শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল গেস্টহাউস, রিসোর্ট ও কটেজে ৬০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। অবশিষ্ট কক্ষগুলোও ২১ মার্চের আগে বুকিং হয়ে যাবে। পাঁচ শতাধিক হোটেলের দৈনিক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৮৭ হাজার।
হোটেল-মোটেল মালিকরা ধারণা করছেন, এবার ঈদের ছুটিতে অন্তত ১১ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে কক্সবাজারে। কক্সবাজার চেম্বারের দেয়া তথ্যমতে, ঈদের ছুটিতে হোটেল-রেস্তোরাঁ, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ১৩টি খাতে অন্তত ৮শ’ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।
কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বাসস’কে বলেছেন, গত বছর ঈদুল ফিতরের ৯ লাখ ৭০ হাজারের মতো পর্যটক কক্সবাজারে এসেছিল। এবার দেশের সার্বিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ১১ লাখের মতো পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ঈদের ছুটিতে ৭-৮ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত আরও কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে। সব মিলিয়ে অন্তত ১১ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারেন। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হোটেল-মোটল, রেস্তোরাঁ এবং যানবাহনে যাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় না করা হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে প্রশাসনকে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের মুখপাত্র পরিদর্শক পারভেজ আহমদ বলেন, ‘যেহেতু ঈদে পর্যটক বাড়বে, সেকারণে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে টহল টিম, মোবাইল টিম ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা টিম মাঠে থাকবে। পর্যটকদের সঙ্গে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আমরা সজাগ আছি।’
সার্বিক বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটন ব্যবসা জমজমাট হলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে কক্সবাজার। পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া আদায় বা রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম বাড়ানো রোধে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24