আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ উত্তেজনার পর স্বস্তির বার্তা দিল ইরান। লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করেছে তেহরান।
লেবাননে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো গাড়ির ছাদে মালপত্র তুলে সড়কে নেমে পড়ে। ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সুযোগে তারা বোমাবিধ্বস্ত দক্ষিণ বৈরুত ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।
তেহরান থেকে এএফপি জানায়, লেবাননে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালিতে সব বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।’
তবে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক জাহাজের চলাচল এখনও নিষিদ্ধ থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই ঘোষণাকে তাৎক্ষণিক স্বাগত জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ‘ধন্যবাদ’ জানান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।
যুদ্ধকালীন বিধিনিষেধ শিথিল
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের চুক্তি শতভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইরান-সংক্রান্ত নৌ অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।’
সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের আশা তৈরি হওয়ায় আগেই তেলের দাম কমছিল, ইরানের ঘোষণার পর তা আরও দ্রুত কমে যায়।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী যুদ্ধকালীন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে বেসামরিক চলাচল ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান এখনো শেষ হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও কাজ শেষ করিনি। রকেট ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় আমাদের আরও পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তবে ট্রাম্প এই অবস্থানের বিরোধিতা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের সঙ্গে কাজ করে হিজবুল্লাহ সমস্যার সমাধান করবে এবং ইসরাইল আর লেবাননে হামলা চালাবে না।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ছয়টি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান।
এসব সত্ত্বেও হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত লেবানিজ নাগরিক ঘরে ফেরার জন্য সড়কে নেমে পড়েন।
৩৭ বছর বয়সী আমানি আতরাশ বলেন, ‘আমাদের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন—গর্ব আর বিজয়ের অনুভূতি কাজ করছে।’
‘নিরাপত্তা অঞ্চল’
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ইসরাইল হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর অধিকার রাখে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ১০ কিলোমিটার ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেন, এই অঞ্চল এখনো ‘সন্ত্রাসী ও অস্ত্রমুক্ত’ হয়নি এবং প্রয়োজন হলে সামরিক অভিযান আবার শুরু হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, লেবানন আন্তর্জাতিক সহায়তায় হিজবুল্লাহর হামলা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে, দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে এবং সীমান্ত বিরোধ সমাধানে সরাসরি আলোচনা জরুরি।
এদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে তারা ‘প্রস্তুত’ রয়েছে।
চুক্তি কি ‘খুব কাছাকাছি’?
যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে মধ্যস্থতা করছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি এখন ‘খুব কাছাকাছি’।
লেবাননে সংঘাত শুরু হয় ২ মার্চ, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালায়।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24