নিজস্ব প্রতিবেদক,সিটিজেন নিউজ: চামড়া সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে সারাবিশ্বে চামড়ার দাম কমছে। আবার বলছে চামড়া যেন ভারতে পাচার না হয় সেজন্য বিজিবি সতর্ক আছে? একই সঙ্গে ঘোষণা দিল সরকার যে কাঁচা চামড়া ও ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানি করা যাবে। এতে করে চামড়া ভারতে পাচার হবে।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বুধবার (১৪ আগস্ট) বাসদ ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন বজলুর রশীদ ফিরোজ।
‘সরকার নির্ধারিত রেটের তোয়াক্কা না করে, সিন্ডিকেট করে পানির দামে চামড়া বিক্রি করতে জনগণকে বাধ্য করার প্রতিবাদে এবং চামড়া সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি’তে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘ঈদের আগে আলোচনা ছিল কত দামের গরু হাটে উঠেছে। ঈদের দিন দুপুর থেকে আলোচনা আর উদ্বেগ শুরু হয়েছে চামড়ার দাম নিয়ে। দেশের চামড়ার চাহিদার প্রায় ৬০ ভাগ চামড়া সংগ্রহ করা হয় কোরবানির পশুর চামড়া থেকে। এবারও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতিবর্গফুট রাজধানীতে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে প্রতিবর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। খাসির কাঁচা চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা। ছাগলের কাঁচা চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা। এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই।’
বাসদের এ নেতা বলেন, ‘কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখলাম প্রকৃত মূল্যের ৪ ভাগের ১ ভাগ দামে চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনছে আর জনগণ এ সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় হয়ে কোরবানির পশুর চামড়া পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ৭০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হলো ৩০০ টাকায়, খাসির চামড়া বিক্রি হলো ১০ টাকায়। ৩১ বছর আগে ১৯৮৯ সালে ৭০০ টাকায় যে চামড়া বিক্রি হয়েছে এবার তার দাম ৩০০ টাকা।’
তিনি বলেন, ‘বগুড়ার ব্যবসায়ীরা বলেছে ৪০ বছরে এতো কম দামে চামড়া বিক্রি হয়নি। দাম না পেয়ে ক্ষোভে দুঃখে অনেক স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। আমাদের দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাম নির্ধারণ করে দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। সাধারণ জনগণ যাতে নির্ধারিত দাম পায় সে ক্ষেত্রে তাদের বাজার তদারকির কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এবার ঈদে ১০ কোটি বর্গফুট চামড়ার দাম জনগণ ৫০০ কোটি টাকা কম পেল।’
বজলুর রশীদ আরও বলেন, ‘এই রকম হরিলুট ব্যবস্থায় আমাদের রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে। এখানে সিন্ডিকেটের কারণে কৃষক ধানের ন্যায্য দাম পায় না, কোরবানির পশুর চামড়ার দাম জনগণ পায় না, সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ে। এমনকি ডেঙ্গু মশার ওষুধ ক্রয়ে দুই কোম্পানি সিন্ডিকেট করে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুট করছে। আর্থিক ও ব্যাংক খাতে সিন্ডিকেটের লুটপাট চলছে। আর এসব সিন্ডিকেটের পাহারাদার এবং আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে রাষ্ট্র ও সরকার।’
তিনি বলেন, ‘কতভাবে ব্যবসায়ীরা সুবিধা পেতে পারে সরকার তার সব আয়োজন নিশ্চিত করে। ব্যবসায়ীদের খেলাপি ঋণের সুদ মওকুফ করা হচ্ছে, ১০ বছরের জন্য অবলোপন করা হয় ঋণ। অপরদিকে কৃষকের মাত্র ৫০০ কোটি টাকা কৃষি ঋণের কারণে তাদের নামে সার্টিফিকেট মামলা দিয়ে কোমরে দড়ি দিয়ে গ্রেফতার করা হয়। যেহেতু বর্তমান সরকার ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসেছে, ফলে জনগণের প্রতি সে কোনো দায় অনুভব করছে না।’
এ সময় জনগণের রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লড়াই-সংগ্রামে সবাইকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান বাসদের এ নেতা।
বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাসদ ঢাকা নগরের সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু প্রমুখ।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24