সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো মেটার এআই স্টার্টআপ ম্যানুস অধিগ্রহণের প্রস্তাব আটকে দিয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ঘোষিত এই চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ২০০ কোটি ডলার। মেটা জানিয়েছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে ম্যানুসের উন্নত এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা গত বছরের ডিসেম্বরে এআই এজেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘মানুস’ অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সোমবার চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সংস্থা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি) এ চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়।
এক বিবৃতিতে এনডিআরসি জানিয়েছে, তারা ‘মানুস’ প্রকল্পের অধিগ্রহণে বিদেশি বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এ লেনদেন প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন থেকে শীর্ষস্থানীয় এআই স্টার্টআপসহ যে কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া মার্কিন বিনিয়োগ গ্রহণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। মূলত মানুস-মেটা চুক্তির প্রেক্ষাপটেই এ কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, বেইজিংয়ের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেন তারা কোনো মার্কিন তহবিল গ্রহণ না করে।
বেইজিংয়ে যাত্রা শুরু করা ‘মানুস’ বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। তারা এ চুক্তিকে জেনারেল এআই এজেন্টের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রণী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বর্ণনা করেছিল। এআই এজেন্ট মূলত মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই ভ্রমণ পরিকল্পনা, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা গবেষণাপত্র তৈরির মতো একাধিক কাজ করতে সক্ষম। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রম সাশ্রয়ী প্রযুক্তি হিসেবে একে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।
মেটা তাদের এআই বিভাগকে শক্তিশালী করতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে তারা কোটি কোটি মানুষের কাছে উন্নত এআই প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে চায়।
বর্তমানে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ ২০টি সেরা এআই মডেলের সবগুলোই এই দুই দেশের কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানের তৈরি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে দাবি করেছিলেন, এআই লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। হোয়াইট হাউসও এই প্রতিযোগিতাকে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান প্রযুক্তি যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে চীনা এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক বাজারে প্রসারের পথ আরও সংকুচিত হতে পারে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24