আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ-সমাপ্তিকারী চুক্তিকে ইরান নিজেদের কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, আলোচনায় তেহরানকে কোনো বড় ধরনের ছাড় দিতে হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকেই আলোচনার পথে আসতে হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএসের প্রতিবেদনে বরা হয়েছে, মোজতবা খামেনি বর্তমানে খুবই গোপন কোনো এক স্থানে অবস্থান করছেন এবং ইরানের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বিশ্বস্ত দূতদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। খামেনি নিজে সরাসরি কোনো তথ্য জানতে চাননা কিংবা কোনো নির্দেশনাও দেন না। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে দূতদের এই নেটওয়ার্ক।
মার্কিন কর্মকর্তারা এই বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, কর্মকর্তারা বলেছেন, এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার জন্য অনুমোদিত ইরানি আলোচকরাও তাদের নিজস্ব সরকারি কাঠামোর মধ্যে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, যখনই তারা কোনো শান্তি প্রস্তাব পাঠান— ইরান প্রায়েই তার প্রতিক্রিয়া জানাতে দীর্ঘ সময় নেয়। এর কারণ সর্বোচ্চ নেতার বিস্তৃত দূত-নেটওয়ার্ক। মার্কিন প্রস্তাব সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে এবং তার জবাব যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত আসার পুরো ব্যাপারটিই হয় এই জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।
এ ব্যাপরে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সিবিএস, কিন্তু কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মোজতবা খামেনি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘অপরেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রথম দিনই নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার স্ত্রী, নাতি ও পুত্রবধু। মোজতবা হন গুরুতর আহত।
আয়াতুল্লাহ নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন মোজতবা। বর্তমানে অত্যন্ত গোপন স্থানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র : সিবিএস
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24