জাকির হোসেনঃ
পিরোজপুর: পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারন গ্রামে নমিতা রানী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূসহ তিনজনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত নমিতা রানী ওই গ্রামের রাধে শ্যামের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের দাবি, পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
সরেজমিনে গেলে স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নিজ ঘরের খাটের ওপর ঘুমিয়ে ছিলেন নমিতা রানী। রাত প্রায় ৯টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেন তার স্বামী রাধে শ্যাম। কোনো সাড়া না পেয়ে খাটের কাছে গিয়ে মুখের ওপর থাকা কাঁথা সরিয়ে তিনি নমিতা রানীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
এ সময় খাটের পাশে তার হাতের শাখা ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিল। এছাড়া গলায় আঘাতের চিহ্নও দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্বজনদের অভিযোগ, নিহতের পুত্রবধূ বন্যা রানী পালের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপি পরিচধারী কামাল পঞ্চায়েতের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। কামাল নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এ সম্পর্ক নিয়ে প্রায়ই আপত্তি জানাতেন নমিতা রানী।
পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে আপত্তিকর অবস্থায় তাদের দেখে ফেলায় পথের বাধা সরাতে পুত্রবধূ বন্যা রানী পাল, কামাল পঞ্চায়েত ও বন্যার মামা তাপস দেবনাথ মিলে নমিতা রানীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
পরে ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকর্মী, পুলিশ ও স্থানীয়রা জড়ো হলে অভিযুক্ত কামাল পঞ্চায়েত দৌড়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় একটি জুতাও ফেলে যায় কামাল।
নিহতের মেয়ে রঞ্জিতা রানী ও কবিতা রানী কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার মা কে মেরে ফেলা হয়েছে। আমার ভাবির সঙ্গে বিএনপি নেতা কামাল পঞ্চায়েতের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। প্রায়ই আসতো আমাদের বাসায়, এলাকার সবাই বিষয়টি অবগত। এই হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার চাই।
নিহতের স্বামী রাধে শ্যাম বলেন, “আমি বাজার থেকে এসে অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাইনি। পরে কাছে গিয়ে দেখি আমার স্ত্রী মৃত্যু অবস্থায় পড়ে আছে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে এবং হাতের শাখা ভেঙে গেছে। কামাল পঞ্চায়েতের প্রতিনিয়ত আমার পুত্রবধূর ঘরে আসতো। আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কামাল পঞ্চায়েতের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মহব্বত খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর জনরোষ থেকে বাঁচাতে গৃহবধূ ও তার মামাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসী জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24