সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: অধিকাংশ ধূমপায়ীদের তামাকের নেশা প্রবল থাকে। তামাকের নেশা ছেড়ে দেয়া অনেকের পক্ষেই তাই কষ্টকর মনে হয়। তবে মনে রাখতে হবে, মানুষের ইচ্ছাশক্তির চেয়ে প্রবল আর কিছু নেই। ধূমপান বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। চিকিৎসকদের মতে, তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তনালিজনিত নানা সমস্যার সঙ্গেও ধূমপানের সম্পর্ক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ধূমপান ছাড়তে হলে জীবনযাপনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা জরুরি। হঠাৎ করে অভ্যাস ত্যাগ না করে ধীরে ধীরে সিগারেটের পরিমাণ কমিয়ে আনা তুলনামূলকভাবে কার্যকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের দেওয়া চারটি কার্যকর উপায় হলো—
১. চকলেট ও চুইংগাম ব্যবহার
হঠাৎ ধূমপানের তীব্র ইচ্ছা হলে চকলেট বা চুইংগাম খেলে মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায় এবং আকাঙ্ক্ষা কিছুটা কমে।
২. কিছু পানীয় এড়িয়ে চলা
চা, কফি বা মদ্যপানের সঙ্গে অনেকের ধূমপানের অভ্যাস জড়িয়ে থাকে। তাই এগুলো কমালে বা এড়িয়ে চললে ধূমপানের ইচ্ছাও অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়।
৩. মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান ছাড়ার সময় মানসিক চাপ একটি বড় বাধা। এ ক্ষেত্রে মনোবিদ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া, গ্রুপ থেরাপি বা পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া উপকারী হতে পারে।
৪. চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার
প্রয়োজনে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা নন-নিকোটিন ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এগুলো অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ধূমপান ছাড়ার পর আবার এই অভ্যাসে ফিরে গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই সিদ্ধান্তে স্থির থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিজেকে ইতিবাচক কাজে ব্যস্ত রাখা ধূমপানমুক্ত জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24