নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি আবর্তনযোগ্য (রিভলভিং) পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যেই এই বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। তহবিলের সুবিধা যাতে প্রান্তিক পর্যায়ের বেশি সংখ্যক কৃষকের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য খাতভিত্তিক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা, শস্য ও ফসল খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা, কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পল্লী ঋণ ও অন্যান্য খাতে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা।
গ্রাহক ও ব্যাংক পর্যায়ে সুদের হার
এই স্কিমের আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর ব্যাংকগুলো কৃষক বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ (সরল সুদে) ঋণ বিতরণ করতে পারবে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও মুনাফার হার কোনোভাবেই ৮ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
এই তহবিলের আওতায় দেশের সব ধরনের শস্য-ফসল চাষ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি কেনা এবং গ্রামে আয় উৎসারী নানা কর্মকাণ্ডের জন্য ঋণ দেওয়া হবে। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপিরা এই সুবিধা পাবেন না। এই তহবিল থেকে একজন কৃষক সর্বোচ্চ তিন বার ঋণ নিতে পারবেন।
জামানত ছাড়া মিলবে ঋণ
ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্য বড় সুবিধা রাখা হয়েছে এই তহবিলে। শস্য ও ফসল চাষের জন্য কোনো জামানত ছাড়াই (শুধুমাত্র শস্য-ফসল দায়বদ্ধকরণের বিপরীতে) একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। পাশাপাশি নারী ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য প্রচলিত জমির কাগজের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে ব্যক্তিগত বা সামাজিক-দলগত জামানত ব্যবহার করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই স্কিমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১৮ মাস, যার মধ্যে ৩ মাস গ্রেস পিরিয়ড (ঋণ পরিশোধের সাময়িক বিরতি) হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া এই টাকা কোনোভাবেই তাদের পুরোনো কোনো ঋণ সমন্বয়ের কাজে ব্যবহার করতে পারবে না।
কোনো ব্যাংক যদি এই তহবিলের অপব্যবহার করে কিংবা গ্রাহকের কাছ থেকে ৮ শতাংশের বেশি সুদ আদায় করে, তবে ওই ব্যাংকের ওপর ২ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই স্কিম থেকে সুবিধা নিতে ইচ্ছুক ব্যাংকগুলোকে আগামী ১ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২ এর সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি সম্পাদন করতে বলা হয়েছে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24