আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের ২০২৪ সালে জারি করা সংক্ষিপ্ত ও ব্যর্থ সামরিক আইন ঘোষণার ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
আজ সোমবার রাজধানী সিউলের কেন্দ্রীয় জেলা আদালত এই রায় দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে পার্ক সুং জায়ে’র বিরুদ্ধে ‘সংবিধান বহির্ভূত পদক্ষেপে যোগসাজশ’, ‘বিদ্রোহের’ এবং ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ অভিযোগ আনা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইওনহাপ নিউজ।
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই দেশজুড়ে জরুরি সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট। পার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট এই ঘোষণা দেওয়া আগে মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠকে ডেকেছিলেন তিনি এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন, সামরিক আইন জারির পর ‘সম্ভাব্য হট্টগোল’ দমনে যেন প্রস্তুত থাকেন তারা।
এদিকেত প্রেসিডেন্ট ইউন সামরিক আইন ঘোষণার পর অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় দক্ষিণ কোরিয়ায়। সরকার ও বিরোধীদলীয় এমপিরা রাতেই পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন তলব করেন এবং প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণাকে কোনোভাবেই পার্লামেন্ট সমর্থন করছে না বলে জানিয়ে দেন। এছাড়া সামরিক আইন জারির পর দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারমার্কেটে ধস নামে দেশজুড়ে বিক্ষোভ পরিস্থিতি দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে সামরিক আইন জারির মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বর ভোরে তিনি তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
আদালতে পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে যে সামরিক আইনকে ন্যায্যতা দিতে উত্তর কোরিয়াকে উসকানি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োলের। উত্তর কোরিয়ায় সামরিক ড্রোন নিক্ষেপ করতে চেয়েছিলেন তিনি। আর এসব পরিকল্পনায় তার বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিলেন পার্ক সুং-যায়ে।
কয়েক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইলোকে ৩০ বছর কারাবাসের সাজা দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত। এবার পার্ক-সুং জায়েকেও কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
সূত্র : ইয়োনহাপ নিউজ, দ্য হিন্দু
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24