
দীর্ঘ ২৫ বছর পর টেস্ট ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। ব্যাটিং-বোলিং ব্যর্থতায় সিরিজের একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে ইনিংস ও ৮৫ রানের ব্যবধানে হারের লজ্জা পেল সফরকারী বাংলাদেশ।
২০০১ সালে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ইনিংস ও ৩২ রানে হার বরণ করেছিল বাংলাদেশ। এছাড়া ২০১৩ সালের পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে প্রথম টেস্ট হারল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ইনিংস ব্যবধান বিবেচনায় এটিই সবচেয়ে বড় জয় জিম্বাবুয়ের। এর আগে ২০২৫ সালে হারারেতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইনিংস ও ৭৩ রানে জয় পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে প্রথম ইনিংসে ২৭০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ৪০ রান করেছিল বাংলাদেশ। ইনিংস হার এড়াতে ৯ উইকেট হাতে নিয়ে আরও ২৩০ রান প্রয়োজন ছিল টাইগারদের।
তৃতীয় দিন দ্বিতীয় ওভারে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২১ রান নিয়ে খেলতে নেমে ১ রান যোগ করে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার হন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ২ চারে ২৩ রান করেন জয়।
ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি আগের দিন ৯ রানে অপরাজিত থাকা মোমিনুল হক। মুজারাবানির বলে স্লিপে ব্র্যাড ইভান্সের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন ২টি চারে ১৩ রান করা মোমিনুল।
৪৬ রানে ৩ উইকেট পতনের পর ৬১ রানের জুটিতে দলের রান ১শ পার করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরান জিম্বাবুয়ের পেসার নিউম্যান নিয়ামুরি। ফুলটস ডেলিভারিতে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন শান্ত। ৩০ রানের ইনিংস খেলার পথে চারবার বলকে সীমানা ছাড়া করেছেন টাইগার দলনেতা।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগ মুর্হূতে উইকেট পতনের তালিকায় নাম তুলেন মুশফিক। মুজারাবানির লেগ সাইডের বলে ফ্লিক করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুশি। ৬২ বল খেলে উইকেটে থিতু হয়ে ৪টি চারে ৩৪ রান করেন তিনি।
১১৭ রানে পঞ্চম উইকেট পতনে ইনিংস হারের শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। দলকে রক্ষা করার দায়িত্ব ছিল দুই অভিষিক্ত ব্যাটার তাওহিদ হৃদয় ও অমিত হাসানের। কিন্তু এই ইনিংসেও ব্যর্থ হন তারা। হৃদয় ৯ রানে থামলেও ৫টি চারে ২৫ রানের ইনিংস খেলেন অমিত।
দলীয় ১৬২ রানের মধ্যে নবম উইকেট পতনের পর শেষ উইকেট জুটিতে ২৩ রান যোগ করে বাংলাদেশের হারের ব্যবধান কমান হাসান ও এবাদত। শেষ ব্যাটার হিসেবে হাসান ১৫ রানে আউট হলে ১৮৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১২ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত।
এর মাধ্যমে টানা চার টেস্ট জয়ের পর অবশেষে হারের দেখা পেল বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুনে কলম্বোতে শ্রীলংকার কাছে ইনিংস ও ৭৮ রানের ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা।
মুজারাবানি ৪টি এবং এনগারাভা ৩টি উইকেট নেন।
প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানের সুবাদে ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি পান জিম্বাবুয়ের ইনোসেন্ট কাইয়া।
আগামী ৬ জুলাই থেকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। এরপর ১৫ জুলাই থেকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে দু’দল।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24