জেলার দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে চিনাবাদামের ব্যাপক ফলন হওয়ায় আনন্দিত কৃষকরা। চলতি খরিপ-১ মৌসুমে চরের অনাবাদি জমিতে এই অর্থকরী ফসলটি ঘরে তোলার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা যায়, সাধারণত বেলে মাটিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে চরাঞ্চলের যেসব জমি সারা বছর পতিত পড়ে থাকত, সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু স্থানীয় কৃষক চিনাবাদাম চাষ শুরু করেন। তাদের সাফল্য দেখে এখন অনেক কৃষক যমুনা ও পদ্মা নদীর বিশাল চরাঞ্চলে চিনাবাদাম চাষ করছেন।
স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় চরের কৃষকরা মান অনুযায়ী প্রতি মণ চিনাবাদাম ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা দরে বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন।
ডিএই-এর তথ্যমতে, জেলায় খরিপ-১ মৌসুমে মোট ৩,৬৪২ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়েছে এবং ৭,১৫৫ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে চিনাবাদাম চাষ হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর কালিকাপুরের কৃষক রিফাজ উদ্দিন জানান, তিনি এ মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন ও দাম পাচ্ছেন।
কৃষক হাবিল উদ্দিন বাসসকে বলেন, চরাঞ্চলে চিনাবাদাম চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কারণ এটি বেলে ও অনাবাদি জমিতে ভালো জন্মে এবং এতে কোনো সেচের প্রয়োজন হয় না।
তিনি বলেন, চিনাবাদাম এখন চরাঞ্চলের মানুষের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। বছরে শীত ও গ্রীষ্ম এই দুই মৌসুমে এর চাষ করা হয়।
কৃষকদের কাছ থেকে চিনাবাদাম কেনার জন্য অনেক ব্যবসায়ী এসব এলাকায় আসেন এবং কিছু মধ্যস্বত্বভোগীও নিয়মিতভাবে এর কেনাবেচা করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহজাহান সিরাজ জানান, চরাঞ্চলের বেলে মাটি চীনাবাদাম চাষের জন্য উপযোগী এবং জেলার দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলায় এর চাষাবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরই চীনাবাদাম চাষের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24