রিপোর্টার শাফায়েত হোসেনঃ
আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও আহ্বায়ক পদপ্রার্থী মনোয়ার হাসান জীবন তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা সংগ্রাম, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এসব অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সত্য কখনো গোপন থাকে না।
তিনি বলেন, সমাজে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা অন্যের ভালো কাজ বা অবদানকে মূল্যায়ন না করে ব্যক্তিস্বার্থ ও অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো বিবেকবান মানুষের পরিচয় বহন করে না।
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে মনোয়ার হাসান জীবন বলেন, তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি আদাবর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, আদাবর থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, বর্তমানে আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, আরাফাত রহমান কোকো যুব ও ক্রীড়া সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং চেতনা বাংলাদেশ আদাবর থানার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি আদাবর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআনে গিবত, অপবাদ ও মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে। যারা মানুষের নামে অপপ্রচার চালিয়ে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন, তাদের বিচার মহান আল্লাহই করবেন।
সম্প্রতি দলীয় একটি সিদ্ধান্তে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার বিষয়ে মনোয়ার হাসান জীবন বলেন, যথাযথ তদন্ত ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, সত্য একদিন অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আদাবর থানা বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে তিনি জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন। কঠিন সময়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলকে সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন বলে তাঁর দাবি।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিএনপির রাজনীতি করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। এমনকি তাঁর মায়ের মৃত্যুর পরও জেল সুপার ও আদালতের অনুমতিতে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়ে আবার কারাগারে ফিরে যেতে হয়েছিল। এই ঘটনাকে তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন।
মনোয়ার হাসান জীবন বলেন, রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারলেও তিনি নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি আরও বলেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না; বরং জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক রাজনীতিই তাঁর লক্ষ্য।
সবশেষে তিনি বলেন, যারা বিভিন্ন সময় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছেন, আমি তাদের জন্যও মহান আল্লাহর কাছে হেদায়েত কামনা করি। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পথে চলার তাওফিক দান করেন। আমিন।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24