রিপোর্টার শাফায়েত হোসেনঃ
দেশের বিভিন্ন জেলায় সিএনজি (গ্যাস) সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবহন চালকরা। দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এতে তাদের আয় কমে যাচ্ছে এবং পরিবার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।
প্রায় ২৬ বছর ধরে পেশাগতভাবে গাড়ি চালানো মো. বিল্লাল হোসেন বলেন,
আমার দীর্ঘ ড্রাইভিং জীবনে এমন গ্যাস সংকট আগে দেখিনি। অতীতে যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে জ্বালানি তেলের সংকট হয়েছে, কিন্তু এখন দেশে গ্যাসের খনি ও মজুদের কথা শোনা যায়। তারপরও কেন এমন সংকট, সেটাই আমাদের প্রশ্ন।
তিনি আরও বলেন, দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতায় তিনি আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। আগে একবারে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকার গ্যাস নেওয়া যেত, অথচ এখন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে একটি গাড়ি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে ডিউটি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্য চালক মো. শহীদ বলেন,
আমাদেরও পরিবার আছে, সংসার আছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, এরপর আবার ডিউটি করতে হয়। এই কষ্ট শুধু চালকরাই বোঝেন। যদি কোথাও কোনো সিন্ডিকেট থেকে থাকে, তাহলে সেটি ভেঙে দ্রুত সংকটের সমাধান করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, রান্নার কাজে এলপিজির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি বাণিজ্যিক স্বার্থেও বিভিন্ন ধরনের প্রভাব থাকতে পারে ও এটি তার ব্যক্তিগত ধারণা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চালকদের ভাষ্য, গ্যাস না পেলে সময়মতো ডিউটি করা যায় না। আর ডিউটি করতে না পারলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমানে একজন প্রাইভেট গাড়িচালকের মাসিক প্রায় ৩০ হাজার টাকা বেতনে সংসার চালানোই কঠিন। এর সঙ্গে গ্যাস সংকট যুক্ত হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
চালকরা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
আমাদের সন্তানরা বড় হয়েছে। এখনও ড্রাইভিং করেই পরিবার চালাতে হচ্ছে। ইচ্ছা ছিল ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষা দিয়ে ভালো চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত করব। আমাদেরও অনেক স্বপ্ন আছে। কিন্তু গরিব হওয়ায় সেই স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংসারের দায়িত্বের কারণে আজও স্টিয়ারিং ধরেই জীবন চালাতে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক চালকের প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স বা দীর্ঘ অভিজ্ঞতা না থাকলেও তারা বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ ১৫ থেকে ২০ বছরের অভিজ্ঞ চালকদের সেই মূল্যায়ন অনেক ক্ষেত্রে আর নেই। তারপরও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে বাধ্য হয়ে কাজ করে যেতে হচ্ছে। না হলে স্ত্রী-সন্তান না খেয়ে থাকবে।
শেষে চালকদের একটাই প্রত্যাশা—সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান করবে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম হন।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24