ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ১ নং জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীতা ঘোষণা তরুণ আইনজীবী এডভোকেট মহিউদ্দিন্রর বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদীতে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিশাল আনন্দ মিছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন রিজভীসহ ৪ নেতা দেশের বাজারে স্বর্ণালঙ্কারের দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ১৫৮ টাকা ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮ অস্ট্রেলিয়ার শক্ত প্রতিরোধে চতুর্থ দিনে রোমাঞ্চের অপেক্ষা ধামইরহাটে বেগম খালেদা জিয়ার ৮১ তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়ার মহাফিল ও আলোচনা বন্ধ চিনিকল চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে : বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান চিকিৎসক ও রোগীর আস্থা, সহানুভূতির বন্ধনই চিকিৎসাসেবার মূল ভিত্তি : প্রধানমন্ত্রী

বিদুৎ খরচ না করেও বেশি বিল দিতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে হিলি সাব-জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে

হিলি প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের হিলিতে ভূতুরে বিলে দিশেহারা গ্রাহকরা। বিদুৎ খরচ না করেও অযথা বেশি বিল দিতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে হিলি সাব-জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে। গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস আগেও যেখানে বিদ্যুৎ বিল ছিল স্বাভাবিক, সেখানে হঠাৎ করেই অনেক গ্রাহকের বিল দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। এসব পরিবার এখন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছে। এদিকে বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে যার কারণে অনেক গ্রাহকের বিল বেশি আসছে বলে জানান হিলি সাব-জোনাল কতৃপক্ষ।

হিলি পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিল পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি। তবে শুধু বিল জমা দিতেই নয়, অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ জানাতেও অসংখ্য গ্রাহক সহকারী মহাব্যবস্থাপকের (এজিএম) কক্ষের সামনে ভিড় করেন। অনেকের হাতেই আগের ও বর্তমান মাসের বিল। একের পর এক গ্রাহকের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ ব্যবহার না বাড়লেও বিল এত বাড়ল কীভাবে?

কয়েকজন গ্রাহক বলেন, পল্লী বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলে আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি। অনেক সময় মিটার রিডিং যথাসময়ে সংগ্রহ না করে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করা হয়। দুই মাস আগেও আমাদের বিদ্যুৎ বিল ছিল দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুইশ টাকার মধ্যে। গত মাসে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার থেকে তিন হাজার সাতশ টাকা, আর চলতি মাসে এসেছে সাত হাজার টাকারও বেশি। আমাদের ব্যবহারে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাহলে এই অতিরিক্ত বিল কোথা থেকে এলো? এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার করাই কঠিন হয়ে যাবে।

তারা বলেন, আগেও যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছি, এখনও প্রায় একই পরিমাণ ব্যবহার করছি। কিন্তু বিল এসেছে দ্বিগুণেরও বেশি। এতে ব্যবসা পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা চাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক।

স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট কবির উদ্দিন বলেন, এই সাব-জোনাল অফিসে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অনেক মিটারের রিডিং নেওয়া হয় না। ফলে একাধিক মাসের ইউনিট একসঙ্গে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত বিল আসে। নিয়মিত মিটার রিডিং নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপাশি বিলিং ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে হিলি সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, বর্তমানে আগের তুলনায় লোডশেডিং অনেক কম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের ইউনিট মূল্যও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে অনেক গ্রাহকের বিল বেশি আসছে। তবে কোনো গ্রাহকের মিটারের রিডিং বা বিলে অসঙ্গতির অভিযোগ থাকলে আমরা তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ১ নং জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীতা ঘোষণা তরুণ আইনজীবী এডভোকেট মহিউদ্দিন্রর

বিদুৎ খরচ না করেও বেশি বিল দিতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে হিলি সাব-জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে

আপডেট টাইম : ০৬:২৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

হিলি প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের হিলিতে ভূতুরে বিলে দিশেহারা গ্রাহকরা। বিদুৎ খরচ না করেও অযথা বেশি বিল দিতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে হিলি সাব-জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে। গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস আগেও যেখানে বিদ্যুৎ বিল ছিল স্বাভাবিক, সেখানে হঠাৎ করেই অনেক গ্রাহকের বিল দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। এসব পরিবার এখন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছে। এদিকে বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে যার কারণে অনেক গ্রাহকের বিল বেশি আসছে বলে জানান হিলি সাব-জোনাল কতৃপক্ষ।

হিলি পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিল পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি। তবে শুধু বিল জমা দিতেই নয়, অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ জানাতেও অসংখ্য গ্রাহক সহকারী মহাব্যবস্থাপকের (এজিএম) কক্ষের সামনে ভিড় করেন। অনেকের হাতেই আগের ও বর্তমান মাসের বিল। একের পর এক গ্রাহকের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ ব্যবহার না বাড়লেও বিল এত বাড়ল কীভাবে?

কয়েকজন গ্রাহক বলেন, পল্লী বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলে আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি। অনেক সময় মিটার রিডিং যথাসময়ে সংগ্রহ না করে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করা হয়। দুই মাস আগেও আমাদের বিদ্যুৎ বিল ছিল দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুইশ টাকার মধ্যে। গত মাসে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার থেকে তিন হাজার সাতশ টাকা, আর চলতি মাসে এসেছে সাত হাজার টাকারও বেশি। আমাদের ব্যবহারে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাহলে এই অতিরিক্ত বিল কোথা থেকে এলো? এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার করাই কঠিন হয়ে যাবে।

তারা বলেন, আগেও যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছি, এখনও প্রায় একই পরিমাণ ব্যবহার করছি। কিন্তু বিল এসেছে দ্বিগুণেরও বেশি। এতে ব্যবসা পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা চাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক।

স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট কবির উদ্দিন বলেন, এই সাব-জোনাল অফিসে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অনেক মিটারের রিডিং নেওয়া হয় না। ফলে একাধিক মাসের ইউনিট একসঙ্গে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত বিল আসে। নিয়মিত মিটার রিডিং নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপাশি বিলিং ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে হিলি সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, বর্তমানে আগের তুলনায় লোডশেডিং অনেক কম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের ইউনিট মূল্যও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে অনেক গ্রাহকের বিল বেশি আসছে। তবে কোনো গ্রাহকের মিটারের রিডিং বা বিলে অসঙ্গতির অভিযোগ থাকলে আমরা তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।


প্রিন্ট