ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নদী-খাল দখল করে জলাবদ্ধতা করতে দেওয়া হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নামিবিয়া সফরে নতুন চেহারার দক্ষিণ আফ্রিকা দল কালীগঞ্জের বাহাদুরশাদী বনিকপাড়া ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের নিউজ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মোঃ শওকত হোসেন সভাপতি প্রকল্প সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধে বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (BTA)-এর পক্ষ থেকে শিল্পনগরী পুলিশ ফাঁড়িতে পিকআপ ভ্যান উপহার : টানা দ্বিতীয়বার দুবাই ক্যাপিটালসে মুস্তাফিজ গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টা, গ্রাম আদালতে মামলা পিরোজপুরে নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হিসেবে সোহরাব হোসাইনের যোগদান মানব চাহিদা পত্রিকার ইউকের ব্যুরো চীফ হলেন দিরাইয়ের সন্তান সাংবাদিক হারুন মিয়া

ধামইরহাটে মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় প্রধান বাধা দরিদ্রতা

ধামইরহাট ( নওগাঁ) প্রতিনিধি :

নওগাঁর ধামইরহাটে মেধাবী এক শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় প্রধান বাধা হয়ে দাড়িয়েছে পরিবারের দরিদ্রতা। দরিদ্র এই মেধাবী শিক্ষার্থী উপজেলার সীমান্তবর্তী ৩৩ নম্বর বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. সাবিরা আক্তার। তার বাবা একজন দিন মজুর।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকক জানান, তার বিদ্যালয়ের মাত্র ৩ জন শিক্ষক হলেও চলতি প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নে সাবিরা আক্তার বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছে। পড়ালেখায় খুব ভালো শিক্ষার্থী হলেও তার পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এক পশলা ভারী বর্ষণেই বৃষ্টির পানি তার শোবার ঘরের দরজায় দিয়ে ঠেকে। বন্যার আতঙ্ক, দারিদ্র্য, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এসবই তার নিত্যসঙ্গী। ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস হলেও । তার জ্ঞান অর্জনের দৌড় থেমে যায়নি। বৃষ্টি-কাঁদায় ভিজে প্রতিদিন সংগ্রাম করেই আসতে হয় স্কুলে,। সে বিশ্বাস করে শিক্ষাই তার জীবন বদলানোর একমাত্র পথ।

কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন, খালি পেটে স্বপ্ন দেখা সহজ হলেও বাস্তবতা বড়ই কঠিন ও নিষ্ঠুর। ভালো আহার, শান্ত পরিবেশ, পড়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা ছাড়া মেধাকে টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। তবুও মেয়েটি লড়ছে। এই লড়াই চালিয়ে যেতে যে সাহস, যে তেজ, যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি লাগে তা অনেক সচ্ছল মানুষের মধ্যেও দেখা যায় না। আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও তাকে যতটুকু সহায়তা দেওয়া উচিত, ততটা দিতে পারছি না। এত বছর পরও শিক্ষক সংখ্যা বাড়েনি, অথচ দায়িত্ব ও শিক্ষার্থীর চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী এই মেয়েটির কাছে আধুনিক প্রযুক্তিও প্রায় অধরা। অনলাইন শিক্ষা, টেন মিনিট স্কুল কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেগুলো অনেকের কাছে খুব সহজলভ্য, তার কাছে সেগুলোও বিলাসিতা। স্মার্টফোন, নিয়মিত ইন্টারনেট বা অতিরিক্ত খরচ এসব বহন করার সামর্থ্য তাদের নেই। তাই তার এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার গল্প নয়, এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক নীরব বিজয়ের গল্প।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতিকুর রহমান বলেন,‘ বাংলাদেশের হাজারো প্রত্যন্ত গ্রামের এমন অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী আছে, অনেক সময় তারা অর্থ ও সুযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ে, তবে মেধাবী শিক্ষার্থী সাবিরা আক্তারকে উপজেলার প্রশাসনের সহায়তায় সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হবে। আর শিক্ষক স্বল্পতার সত্যতা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক ডেপুটেশনের জন্য জেলায় তালিকা পাঠানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহেই শিক্ষক সংকট কেটে যাবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নদী-খাল দখল করে জলাবদ্ধতা করতে দেওয়া হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ধামইরহাটে মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় প্রধান বাধা দরিদ্রতা

আপডেট টাইম : ০৪:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ধামইরহাট ( নওগাঁ) প্রতিনিধি :

নওগাঁর ধামইরহাটে মেধাবী এক শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় প্রধান বাধা হয়ে দাড়িয়েছে পরিবারের দরিদ্রতা। দরিদ্র এই মেধাবী শিক্ষার্থী উপজেলার সীমান্তবর্তী ৩৩ নম্বর বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. সাবিরা আক্তার। তার বাবা একজন দিন মজুর।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকক জানান, তার বিদ্যালয়ের মাত্র ৩ জন শিক্ষক হলেও চলতি প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নে সাবিরা আক্তার বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছে। পড়ালেখায় খুব ভালো শিক্ষার্থী হলেও তার পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এক পশলা ভারী বর্ষণেই বৃষ্টির পানি তার শোবার ঘরের দরজায় দিয়ে ঠেকে। বন্যার আতঙ্ক, দারিদ্র্য, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এসবই তার নিত্যসঙ্গী। ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস হলেও । তার জ্ঞান অর্জনের দৌড় থেমে যায়নি। বৃষ্টি-কাঁদায় ভিজে প্রতিদিন সংগ্রাম করেই আসতে হয় স্কুলে,। সে বিশ্বাস করে শিক্ষাই তার জীবন বদলানোর একমাত্র পথ।

কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন, খালি পেটে স্বপ্ন দেখা সহজ হলেও বাস্তবতা বড়ই কঠিন ও নিষ্ঠুর। ভালো আহার, শান্ত পরিবেশ, পড়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা ছাড়া মেধাকে টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। তবুও মেয়েটি লড়ছে। এই লড়াই চালিয়ে যেতে যে সাহস, যে তেজ, যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি লাগে তা অনেক সচ্ছল মানুষের মধ্যেও দেখা যায় না। আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও তাকে যতটুকু সহায়তা দেওয়া উচিত, ততটা দিতে পারছি না। এত বছর পরও শিক্ষক সংখ্যা বাড়েনি, অথচ দায়িত্ব ও শিক্ষার্থীর চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী এই মেয়েটির কাছে আধুনিক প্রযুক্তিও প্রায় অধরা। অনলাইন শিক্ষা, টেন মিনিট স্কুল কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেগুলো অনেকের কাছে খুব সহজলভ্য, তার কাছে সেগুলোও বিলাসিতা। স্মার্টফোন, নিয়মিত ইন্টারনেট বা অতিরিক্ত খরচ এসব বহন করার সামর্থ্য তাদের নেই। তাই তার এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার গল্প নয়, এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক নীরব বিজয়ের গল্প।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতিকুর রহমান বলেন,‘ বাংলাদেশের হাজারো প্রত্যন্ত গ্রামের এমন অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী আছে, অনেক সময় তারা অর্থ ও সুযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ে, তবে মেধাবী শিক্ষার্থী সাবিরা আক্তারকে উপজেলার প্রশাসনের সহায়তায় সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হবে। আর শিক্ষক স্বল্পতার সত্যতা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক ডেপুটেশনের জন্য জেলায় তালিকা পাঠানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহেই শিক্ষক সংকট কেটে যাবে।


প্রিন্ট