ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্মার্টফোনে ব্লুটুথ অন রাখা কতটুকু নিরাপদ সেভ দ্য চিলড্রেনে চাকরির সুযোগ, কর্মস্থল ঢাকা অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ এনসিপির কালীগঞ্জে যুবককে মারধর, অপহরণচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ বিআরটি উত্তরা মেট্রো সার্কেল-৩ এ অভিযান বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন নয়, ১৬ ডিসেম্বর চালু হতে পারে থার্ড টার্মিনাল চলার পথে নতুন ভরসা, শার্শায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের হুইলচেয়ার বিতরণ ‎বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কে পিরোজপুর জেলা বিএনপির ফুলের শুভেচ্ছা আট মাসেও এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৭.৬৭ শতাংশ

সংস্কৃতির বিকাশেই গড়ে উঠবে মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম : ত্রাণমন্ত্রী

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু আজ লালমনিরহাটে জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস

লালমনিরহাট, ১৪ আগষ্ট, ২০২৬ (বাসস) : সংস্কৃতির বিকাশ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়েই মানবিক, সৃজনশীল, অসাম্প্রদায়িক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে তারা মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে এবং দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

আজ লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী এলাকায় জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ, নিয়মিত অনুশীলন কার্যক্রমের উদ্বোধন ও বরণ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি মানুষের চিন্তা-চেতনা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। তাই নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ধারার সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধের ঝুঁকিও রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বাড়াতে হবে। গান, আবৃত্তি, নৃত্য, নাটক ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় উদ্বুদ্ধ করবে।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, একটি জাতির নিজস্ব পরিচয় ও ঐতিহ্য ধারণ করে তার সংস্কৃতি। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার বিস্তার ঘটলে সমাজে অসহিষ্ণুতা ও বিভাজন কমবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে। এর মধ্য দিয়ে একটি আলোকিত, সহনশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা নৃত্য, সংগীতসহ বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা দিক তুলে ধরেন। মন্ত্রী এসব পরিবেশনা উপভোগ করেন। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির হলরুম, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সামগ্রিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং কার্যক্রম আরও আধুনিক, কার্যকর ও সম্প্রসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ভবিষ্যতে লালমনিরহাটসহ এ অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সংস্কৃতি চর্চার একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী, সংগীতজ্ঞ, আবৃত্তিকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তৈরি হবে, যারা দেশীয় সংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরবেন।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখা সমাজের সবার দায়িত্ব।

জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পাল বলেন, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি লালমনিরহাটের আশপাশের এলাকায় শুদ্ধ সংগীত ও সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠাতা আসাদুল হাবিব দুলুর পরিদর্শন নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।

অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম ফারুক সিদ্দিকী, বড়বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা লিমন, জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্মার্টফোনে ব্লুটুথ অন রাখা কতটুকু নিরাপদ

সংস্কৃতির বিকাশেই গড়ে উঠবে মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম : ত্রাণমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৮:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু আজ লালমনিরহাটে জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস

লালমনিরহাট, ১৪ আগষ্ট, ২০২৬ (বাসস) : সংস্কৃতির বিকাশ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়েই মানবিক, সৃজনশীল, অসাম্প্রদায়িক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে তারা মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে এবং দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

আজ লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী এলাকায় জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ, নিয়মিত অনুশীলন কার্যক্রমের উদ্বোধন ও বরণ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি মানুষের চিন্তা-চেতনা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। তাই নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ধারার সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধের ঝুঁকিও রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বাড়াতে হবে। গান, আবৃত্তি, নৃত্য, নাটক ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় উদ্বুদ্ধ করবে।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, একটি জাতির নিজস্ব পরিচয় ও ঐতিহ্য ধারণ করে তার সংস্কৃতি। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার বিস্তার ঘটলে সমাজে অসহিষ্ণুতা ও বিভাজন কমবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে। এর মধ্য দিয়ে একটি আলোকিত, সহনশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা নৃত্য, সংগীতসহ বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা দিক তুলে ধরেন। মন্ত্রী এসব পরিবেশনা উপভোগ করেন। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির হলরুম, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সামগ্রিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং কার্যক্রম আরও আধুনিক, কার্যকর ও সম্প্রসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ভবিষ্যতে লালমনিরহাটসহ এ অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সংস্কৃতি চর্চার একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী, সংগীতজ্ঞ, আবৃত্তিকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তৈরি হবে, যারা দেশীয় সংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরবেন।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখা সমাজের সবার দায়িত্ব।

জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পাল বলেন, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি লালমনিরহাটের আশপাশের এলাকায় শুদ্ধ সংগীত ও সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠাতা আসাদুল হাবিব দুলুর পরিদর্শন নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।

অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম ফারুক সিদ্দিকী, বড়বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা লিমন, জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট