নিজস্ব প্রতিবেদক
ফটোসাংবাদিক মিশাল মন্ডলকে ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’, ‘অস্ত্রধারী’ ও ‘ভুয়া সাংবাদিক’আখ্যা দিয়ে কতিপয় অনিবন্ধিত নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তাঁর পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্পষ্ট করা হয়েছে-মিশাল মন্ডল কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসী নন;বরং বিগত ৭–৮ মাস ধরে বিপথগামী হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাঁকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার মহৎ উদ্দেশ্যেই পরিবার স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছিল।
সোমবার রাতে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন মিরেরচক এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মিশাল মন্ডলের ছোট বোন। এ সময় পাশে মিশাল মন্ডলের মা, স্ত্রী ও সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে পরিবার জানায়,মিশাল মন্ডল (৪২) দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক উপচার, বাংলার জনপদ ও বরেন্দ্র টেলিভিশনে একজন পেশাদার ফটোসাংবাদিক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিগত ৭–৮ মাস ধরে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং পেশাগত কাজেও অনিয়মিত হয়ে পড়েন, যার ফলে পরিবারে মারাত্মক অশান্তি তৈরি হয়। একজন সদস্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পরিবারের সদস্যরা-বিশেষ করে তাঁর ভাই মিশুসহ অন্যরা-প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। পরিবারের সরাসরি তথ্যের ভিত্তিতেই গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে নগরীর খুলিপাড়া এলাকায় মাদক সেবনরত অবস্থায় মিশালসহ তিনজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। সে সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২১ পিস ইয়াবাসহ তাঁদের আটক করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, পরিবারের এমন একটি দায়িত্বশীল,সৎ ও বেদনাদায়ক পুনর্বাসন প্রচেষ্টাকে পুঁজি করে একটি চিহ্নিত স্বার্থান্বেষী চক্র জঘন্য হলুদ সাংবাদিকতায় মেতে উঠেছে। তারা প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দিয়ে মিশাল মন্ডলকে তথাকথিত ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’ হিসেবে রঙ চড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করছে। সামাজিকভাবে পরিবারটিকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে মিশালের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে তোলা সাধারণ ছবি সংগ্রহ করে চরম বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে।
পরিবার আরও প্রকাশ করে, ইতিপূর্বে সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল মিশালের একটি সাধারণ ছবিকে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও ফটো এডিটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে হাতে পিস্তল জুড়ে দিয়েছিল। এবারও সেই একই চক্র পরিকল্পিতভাবে তাঁর ও গোটা পরিবারের সামাজিক সম্মান ধূলিসাৎ করতে মাঠে নেমেছে।
বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করা হয়,প্রায় ৬–৭ বছর আগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কিছু মামলা দেওয়া হয়েছিল। তবে বিগত কয়েক বছরে তাঁর নামে কোনো নতুন মামলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নেই। দেশের প্রচলিত আইন ও সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই কাউকে ঢালাওভাবে ‘অপরাধী’ বা ‘কারবারি’ আখ্যা দেওয়া চরম বেআইনি, অনৈতিক ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অপপ্রচারকারী সকল স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি,ফেসবুক পেজ ও অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালকে অবিলম্বে এই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় পরিবারের পক্ষ থেকে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত সাইবার সুরক্ষা আইন ও মানহানির সুস্পষ্ট ধারায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সত্য উদঘাটনে প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন দেশবাসীর নিরপেক্ষ সহযোগিতা ও ন্যায়বিচার কামনা করেছে পরিবারটি।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24