নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় স্বামীর মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন নওরিন সুলতানা মিশু। তিনি প্রয়াত লাট কামালের স্ত্রী।
ভুক্তভোগী নওরিন সুলতানা মিশুর দাবি, তার স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাট ও জমির অংশ তার দখলে ছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ওই সম্পত্তিকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও একটি চক্রের তৎপরতা শুরু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, নানা কৌশলে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
চন্দ্রিমা হাউজিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় সম্পত্তিটির মালিকানা, ওয়ারিশ এবং দখলসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা দেখা গেছে। প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি যথাযথ নথিপত্র এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে, মইনুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধেও এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে চলমান রয়েছে এবং তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।
নওরিন সুলতানা মিশুর আরও অভিযোগ, সম্পত্তির বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে এলাকার অনেক মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তর, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ভূমি-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরতে চান তিনি।
নওরিন সুলতানা মিশু বলেন,আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক। আমি ন্যায়বিচার চাই। আমার স্বামী লাট কামাল আজ জীবিত থাকলে হয়তো আমাকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। স্বামীর মৃত্যুর পর আমি নিজেকে অসহায় মনে করছি। আমি চাই, আমার সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং যারা অন্যায়ভাবে হয়রানি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তিনি আরও বলেন,আমি কোনো পক্ষপাতমূলক তদন্ত চাই না। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক। দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দেশবাসীর সহযোগিতায় আমি ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি ও ভুক্তভোগীর অভিযোগের পাশাপাশি, সম্পত্তিটির দলিলপত্র, ওয়ারিশানা তথ্য, দখলসংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে,এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী নওরিন সুলতানা মিশুর।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মইনুদ্দিন আহমেদ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয় পর্বে আরো বিস্তারিত
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24