নিজস্ব প্রতিবেদক, লিড নিউজ ২৪:
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড এবং তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের পর থেকেই জনমনে ব্যাপক কৌতূহল—শেখ হাসিনার নামে দেশে ঠিক কী কী সম্পদ রয়েছে? ঐতিহাসিক ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি কিংবা বহুল আলোচিত সুধা সদন কি তাঁর নিজের নামে?
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মতো দণ্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারকে ‘উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ক্ষতিপূরণ’ (কনসিডারেবল অ্যামাউন্ট অব কমপেনসেশন) দেওয়া হবে। তবে কোন প্রক্রিয়ায় এই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা বণ্টন করা হবে, সেটির আইনি রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রচলিত সাধারণ আইনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান থাকলেও এর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণে ট্রাইব্যুনালের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলে আইনি কাঠামোর আওতায় দণ্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে কোনো বাধা থাকবে না।শেখ হাসিনার নামে যা যা আছে২০২৪ সালের তথাকথিত ‘ডামি নির্বাচনে’ গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার সময় নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা, সেখান থেকে তাঁর ঘোষিত সম্পদের একটি চিত্র পাওয়া যায়।হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা নিজের নামে মোট ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন। এর মধ্যে নগদ অর্থ ছিল মাত্র সাড়ে ২৮ হাজার টাকা! ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমার পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ছিল তাঁর।
যানবাহন হিসেবে তিনটি গাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে একটি ‘উপহার’ হিসেবে পাওয়া। বাকি দুটি গাড়ির দাম দেখানো হয় সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা। এছাড়া ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার এবং ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র নিজের নামে দেখিয়েছিলেন তিনি।স্থাবর সম্পদের মধ্যে টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে মোট ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমি থাকার কথা উল্লেখ করেন, যার ক্রয়মূল্য দেখানো হয় মাত্র ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা! এছাড়া টুঙ্গিপাড়ায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ৬ দশমিক ১০ শতাংশ জমির ওপর একটি তিনতলা ভবনও তাঁর নামে রয়েছে।পূর্বাচলে প্লট জালিয়াতি ও গাজীপুরের বাগানবাড়ি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের এবং পরিবারের ৫ সদস্যের (সজীব ওয়াজেদ, সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব ও আজমিনা সিদ্দিক) নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে মোট ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেন। শুধু শেখ হাসিনার নিজের নামে থাকা প্লটটির দাম দেখানো হয় ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এই প্লট জালিয়াতির ঘটনায় বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে গাজীপুরের মৌচাকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঘেঁষে এই পরিবারের একটি বিশাল বাগানবাড়ি রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ২৯৭ শতক (৯ বিঘা) আয়তনের এই জমির মালিকানায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পাশাপাশি তাঁদের সন্তানেরাও রয়েছেন।দুদকের চোখে সম্পদের অসঙ্গতি গত বছরের মে মাসে দুদক জানিয়েছিল, ২০০৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় শেখ হাসিনা অসত্য তথ্য দিয়েছিলেন। তখন তিনি মাত্র ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ৬ দশমিক ৫০ একর জমির কথা উল্লেখ করলেও, দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ওই সময় তাঁর নামে ২৮ একর ৪১ শতকের বেশি স্থাবর সম্পদ ছিল।ধানমন্ডি ৩২ ও সুধা সদন কার?অনেকের ধারণা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটি শেখ হাসিনার। কিন্তু ভূমি কার্যালয়ের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। এই বাড়িটির মালিকানা রয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর নামে। অন্যদিকে ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বাসভবন হিসেবে পরিচিত ‘সুধা সদন’-এর মালিকানায় তিনি নিজে নেই, বরং বাড়িটি তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে নিবন্ধিত।খুব শিগগিরই আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী এসব বাজেয়াপ্তযোগ্য সম্পদের তালিকা প্রস্তুত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















