চীনের ১৩ বছর বয়সী সাঁতার প্রতিভা ইউ জিদি এশিয়ান গেমসে নিজের সামর্থ্যরে জানান দিয়েছেন। দুই বছর পর লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকেও তিনি প্রতিপক্ষের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন ।
এই স্কুলছাত্রী চলতি সপ্তাহে টোকিওতে অংশ নেওয়া তিনটি ব্যক্তিগত ইভেন্টেই এশিয়ান গেমসের রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ পদক জয় করেছেন। ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্স তার বয়সের তুলনায় অবিশ্বাস্য।
সুইমিং পুলের বাইরে অবশ্য তিনি আর দশজন কিশোরীর মতোই। সতীর্থদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করেন, কিন্তু সাক্ষাৎকারে নিজের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন।
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের সময় ইউয়ের বয়স হবে ১৫ বছর। বিশ্ববাসীর নজরের সামনে তখন তিনি বড় পদকের অন্যতম দাবিদার হতে পারেন।
ইউয়ের কাছে ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে পরাজিত সতীর্থ কে ওয়েনসি বলেন, “সে কোনো কারণ ছাড়াই এত দ্রুতগতির হয়ে ওঠেনি। অনুশীলনে সে কতটা পরিশ্রম করে, আমি তা দেখেছি। জাতীয় দলের এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আমি দেখেছি, সে প্রতিদিন খুব কঠোর পরিশ্রম করছে।”
এই সপ্তাহে ইউ ২০০ মিটার বাটারফ্লাই এবং ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতেও জয় পেয়েছেন।
তার সময়গুলো চলতি বছরের বিশ্বের দ্রুততম সময়গুলোর মধ্যে রয়েছে। ২০০ মিটার মিডলেতে তার সময় বিশ্ব রেকর্ডের চেয়ে মাত্র ০.৪ সেকেন্ড পিছিয়ে ছিল। বিশ্বরেকর্ডটি কানাডার সামার ম্যাকিনটোশের দখলে। লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনিই সম্ভবত ইউয়ের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন।
অলিম্পিক নিয়ে নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে অবশ্য ইউ বিস্তারিত বলতে চাননি। শুধু বলেছেন, তিনি “কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে” চান।
এতে তার পরিণত মানসিকতা এবং সাফল্যের পথে মনোযোগ ধরে রাখার দৃঢ় ইচ্ছারই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, “এই এশিয়ান গেমস থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, তবে কিছুটা আফসোসও আছে। আমি ফিরে গিয়ে যেসব জায়গায় ভালো করতে পারিনি, সেগুলো পর্যালোচনা করব এবং আশা করি পরেরবার আরও ভালো করতে পারব।”
চলতি সপ্তাহে প্রতিযোগিতা করা সহজ ছিল কি না জানতে চাইলে ইউ কয়েক সেকেন্ড বিস্মিত চোখে তাকিয়ে থেকে বলেন, “অবশ্যই নয়।”
সতীর্থদের সঙ্গেই তাকে সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দেখা গেছে, বিশেষ করে ১৫ বছর বয়সী কে-এর সঙ্গে।
টোকিওতে একই কক্ষে থাকা ইউ ও কে ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় হওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশের সময় হাত দিয়ে হৃদয়ের আকৃতি তৈরি করেন এবং আনন্দের সঙ্গে গল্প করেন।
কে বলেন, “আমাদের ঘরে তিনটি বিছানা আছে, দুটি পাশাপাশি জোড়া দিয়ে একটি বড় বিছানা বানানো হয়েছে, আরেকটি ছোট। আমি তাকে বড় বিছানাটি দিয়েছি, কারণ ছোটটিই আমার জন্য যথেষ্ট ছিল। আমি চেয়েছিলাম, সে যেন আরাম করে ঘুমানোর জায়গা পায়।”
ছয় বছর বয়সে একটি ওয়াটার পার্কে সাঁতার কোচের নজরে আসার পর থেকেই তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালিয়ে আসছেন।
জানুয়ারিতে তিনি বলেছিলেন, “সারাদিন ক্লাস করার পরও প্রশিক্ষণ নিতে হতো, যা সত্যিই ক্লান্তিকর ছিল।”
এশিয়ান গেমসের অভিজ্ঞতাকে তিনি “চ্যালেঞ্জিং” বলে অভিহিত করেছেন। আর অলিম্পিকের পথে তার জন্য পরিস্থিতি সহজ হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে ইউ লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসের অন্যতম তারকা হয়ে উঠতে পারেন।
প্রতিযোগিতা শুরুর আগে কী নিয়ে ভাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি অন্য কিছু নিয়ে ভাবি না। শুধু ছোট ছোট বিষয় এবং আমার গতিবিধি নিয়ে ভাবি।”
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24