শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
নেপথ্যে নায়েব আব্দুল হাই সিকদার বাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ডিজিটাল ধামইরহাটে পৃথক ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী মাদক সেবীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার। উজ্জীবন টেকপাথ’ প্রোগ্রামে ১৫ তরুণকে বৃত্তি ওরিয়েন্টেশন। জীবন্ত মানুষকে খাচ্ছে পোকা, খবর পেয়ে ছুটে গেলেন সাংসদ এসএম জাহাঙ্গীর গোদাগাড়ীতে অভিনব কায়দায় রাখা ১৮৮ গ্রাম হেরোইনসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার শিবপুরে খাবারের নামে প্যাকেজ গ্রামীণ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের হাতিয়ার ঢালচরে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন তাহিরপুরে ইয়াবা ব্যবসায়ীর বাপ-চাচার নাম প্রকাশ, সংবাদকর্মীকে হুমকির অভিযোগ রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন: জাতিসংঘে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে টুম্পার নির্দেশনায় মামুনুর রশীদের নাটক ‘অমানুষ’

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৭ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন।ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটের পর কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে মামুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। শেষবারের মতো অনেকটা মাথা নিচু করেই ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় ঢোকেন তিনি।

গত ১৩ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। সরকার পতনের পর গত বছর ১৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে প্রথম অভিযোগ করা হয়েছিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রসিকিউশন বাদী হয়ে মামলা করে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এই ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলা (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয়। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

হাসিনার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই সময় শেখ হাসিনাই মামলাটির একমাত্র আসামি ছিলেন। পরে এ বছরের মার্চে সাবেক  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনকে এ মামলায় আসামি করতে প্রসিকিউশনের করা আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ বছরের ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ এনে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। শেখ হাসিনা ‘মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা ও সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত করেছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে গত ১ জুন শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো।মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ৫৪ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্র পক্ষের দাখিল করা অভিযোগপত্রটি ছিল ১৩৫ পৃষ্ঠার। এর সঙ্গে ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার বিভিন্ন নথি ও তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়া হয়।

এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠার এবং ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার শহিদদের তালিকার বিবরণ রয়েছে। মামলার বিচার চলাকালে আবদুল্লাহ আল-মামুন কারাগারে থাকলেও বাকি দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। শুনানিকালে শুধু মামুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিম শুনানি করেন। এ ছাড়া প্রসিকিউটর বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। আর রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

ঐতিহাসিক এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এ ছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বমোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com