লুতুব আলি, কলকাতা :
সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে ভারতে সব থেকে বেশি যক্ষা রোগের সংখ্যা। যা বিশ্বের মোট যক্ষা রোগীর প্রায় ২৭ শতাংশ। ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষা দিবস। ভারতের স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে চরম উদ্যোগ প্রকাশ করেছেন। সমগ্র পৃথিবীব্যাপী আজ বিশ্ব যক্ষা দিবস পালিত হচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরে এক অভিনব পদ্ধতিতে বিশ্ব যক্ষা দিবস পালিত হল। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এক প্রকার রাস্তায় নেমে এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালন করলো। বর্ধমান শহরের মল্লিক পুকুর এলাকার স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী ও বয়স্ক মহিলাদের যক্ষা রোগ সম্পর্কে সচেতন করা হলো। উপস্থিত ছেলেমেয়েদের কলম, চকলেট দিয়ে বিশ্ব যক্ষা রোগ দিবসটিকে আকর্ষণীয় করে তোলা হলো। সংস্থার সম্পাদক, বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ প্রলয় মজুমদার জানান, সচেতনতামূলক আলোচনার শেষে সকলের জন্য যক্ষা রোগ সংক্রান্ত একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখা হয় এবং সঠিক উত্তরদাতাদের উপহার স্বরূপ কলম, চকলেট দেওয়া হয়। ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ ডা: রবার্ট কোচ যক্ষা রোগের জীবাণু মাইক্রো ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের শত বছর পর ১৯৮২ সাল থেকে এই দিনটি বিশ্বযক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। যক্ষা রোগটি মাইক্রো ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ। এটি সাধারণত ফুসফুসে আক্রান্ত করে, তবে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ কেউ আক্রান্ত করতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সমগ্র বিশ্বের মধ্যে ভারতে যক্ষা রোগীর আক্রান্ত সংখ্যা শীর্ষে। ভারতের যে রাজ্যগুলিতে যক্ষা রোগীর সংখ্যা বেশি সেগুলি হল উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু। ভারতের পর বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ফিলিপাইন, পাকিস্তান সহ এই দেশগুলিতে বিশ্বের মোট যক্ষা রোগীর ৫৬ শতাংশ বসবাস করে। এক সমীক্ষায় জানা গেছে ২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী সমগ্র বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ সক্রিয় যক্ষা আক্রান্ত হয় এবং ১২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ মারা যান। বাংলাদেশের প্রতিবছর যক্ষ্মার কারণে ৩৮ হাজার মানুষ মারা যান। বিশেষজ্ঞ কয়েক জন চিকিৎসক জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতের যক্ষা রোগকে অনেকটা দমন করা হয়েছে। এখানে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা রকম উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে অনেকটা দমন করা গেছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যক্ষা রোগ সম্পর্কে যে সমস্ত পদক্ষেপ গুলি গ্রহণ করেছে সেগুলি হল: সচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা সেবা, রোগ নির্ণয়, বেসরকারি খাতের সাথে সহযোগিতা, গবেষণা ও উন্নয়ন। যক্ষা রোগের নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধ উন্নয়নের জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার মিডিয়া অফিসার অঙ্কিতা সাম বলেন, সরকারি ও বেসরকারিভাবে একইসঙ্গে আরও দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করে যক্ষা রোগকে নির্মূল করতে হবে।