এস চাঙমা সত্যজিৎ
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ
বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলার বোচাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানা যায়, বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে লামা উপজেলার গজালিয়া ইউপির বোচাপাড়া সরাকরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক ফরিদুল আলম স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে ৬ বছর বয়সী রেশমি ত্রিপুরাকে মুখ চেপে ধরে নির্যাতন চালায়। এ নিয়ে শিশুটির মা স্কুলে এসে আর্তনাদ ও অভিযোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয় ।
স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানায়, ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক ফরিদুল আলম প্রথম শ্রেণির ছাত্রী রেশমিকে ব্ল্যাকবোর্ডে বর্ণমালা লিখতে বলেন। লিখতে না পারায় তাকে সঙ্গে সঙ্গে জোরে চড়-থাপ্পর মারেন শিক্ষক। শিশুটির কান্নার শব্দ যাতে বের না হয় সে জন্য মুখ চেপে ধরেন এবং প্রমাণ মুছে দিতে সিসিটিভি ক্যামরা বন্ধ করে দেন। এতে এক পর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে সহপাঠীরা বাসায় নিয়ে গিয়ে বিষয়টি শিশুটির মাকে জানায়।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে অফিসের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অপরদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তার মা মেয়েকে স্কুলের নিয়ে গিয়ে আর্তনাদ করে মেয়েকে মারধরের কারণ জানতে চান। কিন্তু স্কুলটির প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের কোন কিছু না বলে বসে থাকতে দেখা যায়।
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর মা রজনী ত্রিপুরা অভিযোগ করে বলেন, তারা দুজনই জুমে কাজ করছিলেন। মেয়ের অজ্ঞান হওয়ার খবর পেয়ে ছুটে আসেন বাড়িতে। পরে মেয়েকে নিয়ে গ্রামবাসীসহ তারা স্কুলে ছুটে যান।
তিনি আরও বলেন, বর্ণমালা লিখতে না পারায় মেয়েকে চড় মেরে অজ্ঞান করে ফেলেন শিক্ষক ফরিদ। আর মারার সময় সিসিটিভি বন্ধ করে দিয়েছেন। ছোট বাচ্চাদের শিক্ষকরা এমন মারলে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে কীভাবে পাঠাবো?
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলমের সাথে এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ত আছেন বলেন এড়িয়ে যান তিনি।
লামা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফ বলেন, ছাত্রীকে মারধরের ঘটনাটি ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন অবগত করেছেন। এভাবে ছোট শিশুকে মারধর করার কোন নিয়ম নেই। এই বিষয়ে ছাত্রীর পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিনয় চাকমা বলেন, শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি শুনে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে আইনি পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য নির্দ্দেশ দেওয়া হয়েছে।