নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইন ও যানজটে আটকে পড়েছিল বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের গাড়ি।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে আটকে থাকার পরও তেল না পেয়ে তার গাড়ির জ্বালানি শেষ হওয়ার উপক্রম হয়। এর মধ্যে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হলে তিনি বাধ্য হয়ে হেঁটে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান তার বক্তব্যে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় জামায়াত আমির নিজে দেরিতে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে যখনই সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিরা কথা বলেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশে এখন দুধের নহর নয়, বরং তরল সোনার নহর বয়ে যাচ্ছে। আমরা যখন জ্বালানি সংকট আর জনগণের ভোগান্তি নিয়ে কথা তুলি, তখন আমাদের নোটিশ আলোচনায় আসতেই দেওয়া হয় না। সত্য জনগণের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাঁরা এমনটা করেন। কিন্তু পেঁচা চোখ বন্ধ করে রাখলেই কি আগামীকাল সূর্য উঠবে না? অবশ্যই আজকের মতো আগামীকালও ইনশাআল্লাহ সূর্য পূর্ব দিকে উঠবে। পেঁচার চোখ বন্ধ থাকার ওপর সূর্যের উদয় হওয়া নির্ভর করে না।
তিনি বলেন, একটি পাম্পের লাইনে হাজার হাজার গাড়ি এবং মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে আছে, লাইনের পর লাইন। চাকা আর ঘোরে না। অথচ আমাদের মন্ত্রীরা বলেন, আগের চেয়ে তেলের রিজার্ভ এখন অনেক বেশি; কেবল চাহিদা বেড়ে গেছে। যদি তাই হয়, তবে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা তোমরা শুধরে নিচ্ছ না কেন? জনগণকে কেন ভোগাচ্ছ?
তেলের অভাব ও যানজটে নিজের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, আজ তেলের অভাবে ও গাড়ির চাপে আমার নিজের গাড়ির তেলও প্রায় শেষ হওয়ার উপক্রম। এক ঘণ্টার মতো রাস্তায় আটকে ছিলাম। একদিকে তেল পাচ্ছি না, অন্যদিকে যানজটে আটকে থেকে যতটুকু তেল ছিল তাও শেষের পথে।
তিনি কৃষিখাতের সংকট নিয়ে বলেন, শুধু কি গাড়ির তেল? কৃষিপ্রধান এই দেশে খামারিরা এখন ফসলে সেচ দেওয়ার পানির জন্য হাহাকার করছেন। কুপি বা ছোট যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না; বলা হচ্ছে কার্ড নিয়ে আসতে। সাধারণ মানুষ কার্ড আনবে কীভাবে? এভাবে পাম্পগুলো অচল হয়ে পড়লে আগামী মৌসুমে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হবে এবং দেশ বড় ধরনের খাদ্য ঘাটতিতে পড়বে।
৭৪-এর দুর্ভিক্ষের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এ দেশে আমরা ৭৪-এর দুর্ভিক্ষ দেখেছি। কারো ঘর পোড়ে, আর কেউ সেই ঘরে আলু পোড়া খায়। এখন যারা ক্ষমতায় আছে, তারা বোধহয় সেই আলু পোড়া খাওয়ার অপেক্ষায় আছে। আল্লাহ তায়ালা এই জাতিকে হেফাজত করুন। আমরা জনগণকে কথা দিচ্ছি, আমরা যে ৭৭ জন আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে গিয়েছি, আমরা ১৮ কোটি মানুষকে পাহারা দেব। জাতির ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন ডাকাতি বা ছিনিমিনি খেলতে না পারে, তা আমরা নিশ্চিত করব, পাহারা দেব।
শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রথমেই শিশুদের ওপর হাত পড়েছে। স্কুল বন্ধ করে তাদের ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনার সময় পড়াশোনা দারুণভাবে ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিশু ড্রপআউট হয়ে কিশোর গ্যাং-এর মতো বিপথে চলে গেছে। এখন আবার সরকার একই পথে হাঁটলে জাতিকে অন্ধত্ব ও মূর্খতার চাদরে ঢেকে দেওয়ার নামান্তর হবে। আমরা এটা রুখে দেব, এটা মানব না।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমাদের সন্তানদের মেধা হত্যার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। আমাদের বার্তা স্পষ্ট, সব ব্যবস্থা নেওয়ার পর সর্বশেষ পদক্ষেপ হতে পারে শিক্ষা খাতের ওপর, তার আগে নয়। লোড ম্যানেজমেন্ট বা ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টের নামে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। ১৮ কোটি মানুষের প্রজন্মের জন্য মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে কোনো কম্প্রোমাইজ করবো না।